Sylhet Today 24 PRINT

দেশে ফিরেই মর্গে সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতির মেয়েরা, শুক্রবার দাফন

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১৩ আগস্ট, ২০২৬

খুন হওয়া সিলেটের প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগম দম্পতির মেয়েরা যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছেন। সিলেটে এসেই তারা ছুটে যান ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। সেখানে আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের মরদেহ রাখা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এই দম্পতির দুই মেয়ে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে সেখান থেকে সরাসরি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে যান। সেখানে তাদের বাবা-মা ও গৃহকর্মীর মরদেহ রাখা রয়েছে। মর্গে পৌঁছেই কান্নায় ভেঙে পড়েন দুই মেয়ে। বাবা-মায়ের মরদেহ দেখে শোকে স্তব্ধ হয়ে যান তারা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মর্গ থেকে তারা কোতোয়ালি থানায় গিয়ে হত্যা মামলার কার্যক্রম শুরু করবেন। আর শুক্রবার নয়াসড়কস্থ হযরত মানিক পীর (রহ.) মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে নিহতদের দাফন সম্পন্ন হবে। নিহত দম্পতির ছেলে আরিফ ইফতেখার যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুক্রবার দেশে ফিরবেন।

নিহত আব্দুস সাত্তারের চার সন্তানের সবাই প্রবাসে বসবাস করেন। তাদের মধ্যে দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে এবং এক মেয়ে ও একমাত্র ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।

এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে তাদের লাশ পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত গৃহকর্মী তাহমিনার মরদেহ হযরত মানিক পীর (রহ.) মাজারসংলগ্ন গোসলখানায় গোসল করানো হয়। পরে স্বজনরা তার লাশ নিয়ে সুনামগঞ্জে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার সকালে রায়নগরের মিতালী এলাকার একটি বাসায় ঘটে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ঘটনার চার ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ রহস্য উদঘাটনের দাবি করে। জিজ্ঞাসাবাদে গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের প্রেমিক বাবুল মিয়া একাই তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সকালে তাহমিনার সম্মতিতে বাবুল বাসায় প্রবেশ করে। পরে অনৈতিক প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বিরোধ বাধে। একপর্যায়ে বাবুল ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে হত্যা করে। তাহমিনার চিৎকারে এগিয়ে আসা গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং পরে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তারকেও একইভাবে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায় এবং কাছের একটি ঝোপে ছুরিটি ফেলে দেয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজের সহায়তায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয় এবং ঝোপঝাড় থেকে ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ।

বুধবার সন্ধ্যায় বাবুল মিয়াকে আটকের পর সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেছিলেন, বাবুল মিয়া ওই বাসার রংমিস্ত্রির কাজ করত, মাঝে মাঝে কসাইয়ের কাজও করত। ওই বাসার গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে বাবুল ওই বাসায় গিয়ে গৃহকর্মীকে নিয়ে একটি কক্ষে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে একপর্যায়ে বাবুল ছুরি দিয়ে মেয়েটিকে আঘাত করে।

তিনি বলেন, শব্দ পেয়ে আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। তাদের চিৎকার শুনে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার এগিয়ে আসেন। তখন তাকেও ছুরি মেরে হত্যা করে বাবুল। পরে সে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায়।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.