নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৫ আগস্ট, ২০২৬
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা ৩য় বারের মতো প্রকাশ্যে গণনা চলছে। ৩৪ দিন পর শনিবার সকাল এ গণনার কাজ শুরু হয়।
এরআগে সকালে মাজারের দানবাক্স ও ডেগ থেকে টাকা সংগৃহ করা হয়। দানবাক্স ও ডেগে বিপুল পরিমাণ টাকার পাশপাশি কয়েকটি চিঠিও পাওয়া যায়। একেকজন একেক উদ্দেশে এসব চিঠি লিখেছেন।
এরমধ্যে একটি চিঠি সবার নজড় কেড়েছে। হেনা নামের এক নারী তার স্বামীকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে আল্লাহর উদ্দেশে এ চিঠি লিখেছেন।
চিঠিতে হেনা লিখেন-
ইয়া আল্লাহ, আমি তোমার ওলির মাজারে আমার মনের কষ্টগুলো ব্যক্ত করছি। যারা আমার স্বামীকে কুপথে নিছে আল্লাহ তুমি তাদের বিচার করিও। আমার মত কষ্ট যেন কেউ না পায়। আল্লাহ তুমি মাদকদ্রব্য পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দাও। -হেনা’
প্রসঙ্গত, এরআগে ২২ জুন ও ১১ জুলাই প্রকাশ্যে শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, শনিবার সকাল ১০টার দিকে দানবাক্স ও দানের ডেগগুলোর সিলগালা খোলার কার্যক্রম শুরু হয়। ৩টি ডেগ ও ৩টি বড় দানবাক্স খোলার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হয় টাকা গণনা। অন্তত ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী মিলে টাকা গুনছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, আগের দুইবারের চেয়ে এবার দানবাক্সে বেশি টাকা পড়েছে। ১ মাস ৪ দিন পর দানবাক্সগুলো খুলে প্রচুর পরিমান টাকা মিলেছে। তবে টাকা গোনা শেষ হতে হতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে গিয়ে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তাঁর নির্দেশে ১৮ জুন ডেগে সিলগালা এবং নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হলে স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে টানাপড়েন দেখা দেয়।
বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে ‘রুটিন বদলি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
নতুন দানবাক্স স্থাপনের চার দিন পর ২২ জুন প্রথম দফায় তা খুলে গণনা করা হয়। এতে নগদ ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়।
প্রথম গণনার ১৮ দিন পর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খোলা হয়। তখন পাওয়া যায় নগদ ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এ সময় একাধিক দেশের মুদ্রাসহ বিভিন্ন সামগ্রীও পাওয়া যায়।