Sylhet Today 24 PRINT

ভূমধ্যসাগরে ১১ বাংলাদেশি নিহত, আছেন ‘সুনামগঞ্জের কয়েকজন’

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি |  ১৬ আগস্ট, ২০২৬

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিখেঁাজ সুনামগঞ্জের ৭ জন। ফাইল ছবি

লিবিয়া থেকে সাগর পথে অবৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে অন্তত ১১ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের কয়েকজন আছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এছাড়া সুনামগঞ্জের আরও অন্তত ৭ জন নিঁখোজ রয়েছেন।

জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার ও পানির সংকটে তাদের চোখের সামনেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। মরদেহগুলোতে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সেগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন তারা।

এ ঘটনায় এখনও নিখোঁজ সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৭ যুবক। এদের মধ্যে রয়েছেন- উপজেলার পাগলা শত্রুমর্দনের হৃদয় পাল, চিকারকান্দি গ্রামের এনামুল খাঁন, রিপন মিয়া, মামুন খাঁন এবং রনসী গ্রামের মো. তালহা।

ধারণা করা হচ্ছে নিহত কয়েকজনের যুবকের বাড়ি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে । তবে এখনো তাদের বিস্তিারিত পরিচয় জানা যায়নি।

জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার ও পানির সংকটে তাদের চোখের সামনেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। মরদেহগুলোতে পঁচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সেগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন তারা।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা গ্রিসের উদ্দেশে লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে। নৌকাটিতে থাকা ৪২ জনের মধ্যে ৩৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি।

নৌকাটি ঝড়ের কবলে পড়েছিল। এতে খাবার ও পানির মজুত সাগরে ভেসে যায়। এরপরও বিপজ্জনক যাত্রা অব্যাহত রাখেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে নৌকাটি সাগরে ভাসতে থাকে।

টানা নয় দিন ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকার পর বাতাসের স্রোতে নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে পৌঁছে যায়। পরে মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে আব্দুল করিম ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, আমরা ৪২ জন গ্রিসের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিলাম। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর আমাদের নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। ফলে আর সামনে এগোতে পারিনি।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে খাবার বা পানি কিছুই ছিল না। চোখের সামনে নয়জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দিতে হয়েছে। পরে আরও দু’জন মারা যান। দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে আমাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে পঁচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে।

তিনি বলেন, আমরা এখন মারসা মাতরুহ হাসপাতালে ভর্তি। এখানকার চিকিৎসকরা আমাদের চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং ভালো খাবারেরও ব্যবস্থা করছেন। আমাদের বাঁচান। আমরা দেশে ফিরে যেতে চাই।

নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৭ জন বলে জানা গেছে বিভিন্ন সূত্রে। তাদের পরিচয় এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

এরআগে গত মার্চে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে সুনামগঞ্জের ১৩ জন মারা যান।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.