কানাইঘাট প্রতিনিধি | ১৯ আগস্ট, ২০২৬
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী সুরইঘাট বাজারে মঙ্গলবার রাতে ভারতীয় জিরা বোঝাই বেপরোয়া গতির টাটা পিকআপের চাকায় পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত ফারুক আহমদ (৬৫) মৃত্যুবরণ করেছেন। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার রাতে ঢাকার পঙ্গু হাসপতালে নিয়ে যাওয়ার পথে বুধবার ভোর ৪টার দিকে পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়।
বর্তমানে ফারুক আহমদের লাশ কানাইঘাট থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন লাশের ময়না তদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে কানাইঘাটের লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সুনারতনপুঞ্জি এলাকা থেকে ভারতীয় জিরা বোঝাই একটি টাটা পিকআপ ধরতে পিছু ধাওয়া করে সুরইঘাট বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা। বিজিবির ধাওয়া খেয়ে বেপরোয়া গতিতে চালানো পিকআপটি সুরইঘাট বাজার অতিক্রম করার সময় বিজিবির সদস্যরা গাড়িটি আটকের চেষ্টা করলে গাড়ির চাকায় পৃষ্ট হয়ে গুরুত্বর আহত হন কানাইঘাট সদর ইউপির আগ্রীপাড়া গ্রামের মৃত মতসিন আলীর পুত্র ফারুক আহমদ (৬৫) ও একই ইউনিয়নের নিজ চাউরা উত্তর গ্রামের মৃত আমির আলীর পুত্র আম্বিয়া (৫০)। তারমধ্যে ফারুক আহমদের দুই পা ভেঙ্গে গেলে আশংকাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করার পর তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসতালে প্রেরণ করেন কর্তৃব্যরত চিকিৎসকরা। কিন্তু পথিমধ্যে মৃত্যু হয় হত-দরিদ্র সুরইঘাট বাজারের দিন মজুর ফারুক আহমদ। এ ব্যাপারে সুরইঘাট বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কম্পানী কমান্ডারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ভারতীয় জিরা বোঝাই পিকআপটি আমরা আটক করেছি। বিষয়টি আইনী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
থানার কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জানান ফারুক আহমদের লাশের ময়না তদন্ত করা হবে। তবে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এখনো কোন মামলা দায়ের করা হয়নি।
জানা গেছে সুরইঘাট এলাকার চিহ্নিত চোরাকারবারীরা ফারুক আহমদের আহতের ঘঁনাটি ধামাচাপা দিতে শুরু থেকে তৎপর ছিল এমনকি ফারুক আহমদ মারা যাওয়ার পর তার পরিবার যাতে করে মামলা না করেন এজন্যে নানা ধরনের তদবির চালিয়ে যাচ্ছে তারা। তবে নিহত ফারুক আহমদের পরিবার থেকে বলা হচ্ছে তারা দায়ীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করবেন।