Sylhet Today 24 PRINT

ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ২৯ জনের মধ্যে ২৪ জনই সিলেটের

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২২ আগস্ট, ২০২৬

লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিস যাওয়ার পথে দিকভ্রান্ত হয়ে মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছানো ২৯ বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে ২৭ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৪ জনই সিলেট বিভাগের বাসিন্দা।

শনাক্ত হওয়া ২৭ জন সুস্থ হয়ে বর্তমানে মিশরের স্থানীয় পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। বাকি দুই বাংলাদেশি নাগরিক এখনো মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জীবিত উদ্ধার হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে থাকা আরও নয় বাংলাদেশি নাগরিক সাগরে মারা গেছেন এবং তাদের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছেন জীবিত উদ্ধার হওয়া সুনামগঞ্জের আব্দুল করিম।বাংলাদেশ সংবাদ

জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট মানবপাচার চক্রের সহায়তায় লিবিয়ার তবুক এলাকা থেকে একটি নৌকায় করে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেন বাংলাদেশিসহ অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। ভূমধ্যসাগরে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ার পর এটি দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। প্রায় ১০ দিন সাগরে ভাসমান থাকার পর গত ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় বাংলাদেশি নাগরিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।

পুলিশ হেফাজতে থাকা ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে সিলেট বিভাগের চার জেলার মোট ২৪ জন রয়েছেন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ সদরের ১২ জন হলেন তায়েবুর রহমান, মো. মাহফুজ মিয়া, মো. লোহানী আহমেদ, বদর উদ্দিন, সোহেল মিয়া, মো. হোসাইন আহমেদ, আলিম উদ্দিন, সাব্বির হোসেন তালহা, এনাম উদ্দিন, আবু সাঈদ এয়াহিয়া, আব্দুল করিম ও মো. মামুন খান। এছাড়া সুনামগঞ্জের দিরাই থেকে নাইম আহমেদ, জগন্নাথপুর থেকে সাইদুল ইসলাম, মো. হোসাইন মিয়া, আরিফ আহমেদ ও হুজাইফা বিন হোসাইন এবং ছাতক থেকে তোফায়েল আহমেদ রয়েছেন তালিকায়।

হবিগঞ্জ থেকে রয়েছেন সদরের মোস্তাকিন ভূঁইয়া এবং আজমিরীগঞ্জের সোহেল মিয়া ও রিয়াজ উদ্দিন আহমদ। সিলেট জেলা থেকে রয়েছেন গোয়াইনঘাটের তানভীর হোসেন এবং বিয়ানীবাজারের রাজু মিয়া ও নজরুল ইসলাম।

সিলেট বিভাগের বাইরে থাকা বাকি তিন জন হলেন মাদারীপুরের মো. ফারুক, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের সায়মন মিয়া এবং ভৈরবের মহরম আলী। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা আরও দুই বাংলাদেশি নাগরিকের নাম-পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন জানান, মানবপাচার চক্রের সহায়তায় গত ৩ আগস্ট লিবিয়ার তবুক এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকাটি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার পথে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং গত ১৩ আগস্ট মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়। অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়, যাদের মধ্যে ২৭ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং বর্তমানে মারসা মাতরুহ পুলিশ স্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত একটি অস্থায়ী কারাগারে আটক রয়েছেন।

জাকির হোসেন জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাকি দুই বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, তবে সুস্থ হয়ে পুলিশ হেফাজতে থাকাদের ছবি ও ঠিকানা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে।

দূতাবাসের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের মেহেদি হাসান (পিতা মো. সাবু মিয়া) মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে গত ১৬ আগস্ট বিকেলে একই উপকূল থেকে আরও এক বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে দুটি মরদেহ মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে।

মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং সাগরে নিখোঁজ নয় বাংলাদেশির নাম-পরিচয় ও ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য জীবিত উদ্ধার হওয়া সহযাত্রীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া জরুরি বলে জানিয়েছেন দূতাবাসের কর্মকর্তা। এ বিষয়ে সাক্ষাৎকার গ্রহণের সুযোগ চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এছাড়া নৌকা থেকে শামীম আহমেদ ও হাবিব উল্লাহ নামের দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং হৃদয় পাল, মো. হাবিব উল্লাহ ও নুর আলম নামের তিনটি পাসপোর্ট পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

জাকির হোসেন বলেন, মিশরের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদালত ও প্রসিকিউশনের সিদ্ধান্তের পর আটক ২৭ বাংলাদেশির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে মর্গে সংরক্ষিত দুই মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দ্রুততম সময়ে আটক বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানো এবং মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.