Sylhet Today 24 PRINT

বড়লেখায় জিম্মায় থাকা ১৪ মহিষের ৯টি উধাও, চোরাকারবারি-ইজারাদারসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মো: নাজমুল ইসলাম, বড়লেখা |  ২২ আগস্ট, ২০২৬

প্রতীকী ছবি

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় চোরাই পথে ভারত থেকে আনা ১৪টি মহিষের মধ্যে পাঁচটি উদ্ধার করেছে বিজিবি। তবে বিজিবির নজরদারিতে থাকা অবস্থায় বাকি নয়টি মহিষ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শনিবার (২২ আগস্ট) বড়লেখা থানায় মামলা করেছে বিজিবি। মামলায় গৌরনগর গ্রামের হিফজুর রহমান ও তার বড়ভাই লুৎফুর রহমান এবং চান্দগ্রাম বাজারের ইজারাদার আলাল উদ্দিনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বিজিবি, মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট সকালে বিজিবি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে বড়লেখা উপজেলার গৌরনগর এলাকায় সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতীয় ১৪টি মহিষ চোরাকারবারি হিফজুর রহমান ও লুৎফুর রহমানের বাড়ির গোয়ালঘরে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে বিজিবি বড়লেখা থানা পুলিশের সহায়তায় লুৎফুর রহমানের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়ির গোয়ালঘরে সাতটি গাভি মহিষ ও সাতটি বাছুরসহ মোট ১৪টি মহিষ পাওয়া যায়। এসময় মহিষগুলোর বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হিফজুর রহমান ও লুৎফুর রহমান দাবি করেন, তারা গত ৮ আগস্ট চান্দগ্রাম গরুর বাজার থেকে রানু দাস ও আব্দুল মুকিমের কাছ থেকে মহিষগুলো কিনেছেন। এ সময় তারা মহিষ কেনার দুটি রশিদও বিজিবিকে দেখান। বিজিবি বিষয়টি নিশ্চিত হতে চান্দগ্রাম বাজারের ইজারাদার আলাল উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মহিষ কেনার দুটি রশিদ যাচাই-বাছাই ও মহিষগুলোর মালিকানা সম্পর্কে অনুসন্ধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামের জিম্মায় মহিষগুলো হিফজুর রহমান ও লুৎফুর রহমানের গোয়ালঘরে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিজিবি। একই সঙ্গে রশিদ যাচাই ও অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত মহিষগুলো অন্যত্র সরিয়ে না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে পরবর্তী বিজিবি রশিদে উল্লেখ করা বিক্রেতা রানু দাস ও আব্দুল মুকিমকে দেখানো হলে তারা ওই রশিদের স্বাক্ষর তাদের নয় বলে জানান। চান্দগ্রাম গরুর বাজারের ইজারাদার আলাল উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তাঁর স্বাক্ষরিত মহিষ বিক্রির রশিদ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য দেন। পরে বিজিবির অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ে হিফজুর রহমান ও লুৎফুর রহমানের মালিকানা দাবির কাগজপত্র ভুয়া বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর মহিষগুলো উদ্ধারে শুক্রবার বিকেলে আবারও বিজিবি-পুলিশ যৌথ অভিযান চালায় লুৎফুর রহমানের বাড়িতে। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে কোনো মহিষ পাওয়া যায়নি। পরে বাড়ির পাশের জমিতে পাঁচটি মহিষের সন্ধান পায় অভিযানকারী দল। সেগুলো উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।

বড়লেখা থানার ওসি মনিরুজ্জামান খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে শনিবার রাতে জানান, পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু করেছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.