Sylhet Today 24 PRINT

মা–বাবা ও বোনের মৃত্যুর খবর জানে না ছোট্ট মারিয়া ও ইয়াকুব

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২২ আগস্ট, ২০২৬

দুর্ঘটনায় নিহত পরিবারের স্বজনদের আহাজারি

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় তেলবাহী ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মা–বাবা ও এক বোন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নিহত দম্পতির ৮ ও ৪ বছর বয়সী দুই ছেলেমেয়ে। তারা সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে মা–বাবা ও বোনের মৃত্যুর খবর তারা এখনো জানে না।

শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ মোট চারজন নিহত হন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরামশী গ্রামের নিয়ামত আলী (৪০), তাঁর স্ত্রী হজুফা বেগম (২৮), মেয়ে আয়েশা বেগম (৬) ও অটোরিকশার চালক লালন মিয়া (২৮)। লালনের বাড়ি ওসমানীনগর উপজেলার শেরপুরের মাঝের বাড়ি এলাকায়। নিয়ামত আলীর আদি বাড়ি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার ইসলামপুরে।

দুর্ঘটনায় আহত নিয়ামত আলীর বড় মেয়ে মারিয়া আক্তার (৮) ও ছোট ছেলে ইয়াকুব আলী (৪) ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের ছোট চাচা গাজীরুল ইসলাম হাসপাতালে তাদের দেখাশোনা করছেন।

গাজীরুল ইসলাম বলেন, চার দিন আগে পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নিয়ে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের ইসলামপুরে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন বড় ভাই। আজ সকালে সেখান থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন। ঘটনাস্থল থেকে একজন ভাইয়ের ফোন থেকে কল করে খবর দেন। পরে তিনি মাকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে এসে দেখেন, এক ভাতিজি ও এক ভাতিজা চিকিৎসাধীন। তারা জানে না, তাদের মা–বাবা ও বোন মারা গেছে। সুস্থ হওয়ার পর কীভাবে তাদের এই খবর দেবেন, সেটাই ভাবছেন।

নিহত নিয়ামত আলীর মামা আব্দুল আওয়াল বলেন, আমার ভাগনা মারা গেছে। ভাগনার বউ ও ভাগনার মেয়ে তিনজন মারা গেছে। একই পরিবারের পাঁচজন গাড়িতে ছিল। তাঁদের মধ্যে তিনজন মারা গেছে। জীবিত আছে ভাগনার ঘরের নাতি-নাতনি একজনের বয়স চার-পাঁচ বছর।

ঋণ নিয়ে ফিরছিলেন নিয়ামত

নিহত নিয়ামত আলী কৃষিকাজের পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালন করতেন। সম্প্রতি হাঁস-মুরগির খামার করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ জন্য অষ্টগ্রামের ইসলামপুরে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ৫০ হাজার টাকার ক্ষুদ্রঋণ নেন। পাশাপাশি শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন।

নিয়ামতের ভাই গাজীরুল ইসলাম বলেন, ‘৭০ হাজার টাকা সঙ্গে নিয়ে সকালে ভাই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু দুর্ঘটনার পর তাঁর মরদেহের সঙ্গে আমরা ওই টাকা পাইনি।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকাগামী পদ্মা কোম্পানির একটি তেলবাহী ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, হতাহত ব্যক্তিদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শেরপুর হাইওয়ে থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত তেলবাহী ট্রাক ও অটোরিকশাটি জব্দ করে হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.