নিজস্ব প্রতিবেদক | ২২ আগস্ট, ২০২৬
সব বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এক ওমরাহ যাত্রীকে ইমিগ্রেশন না করে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ওই যুবককে বিমানবন্দরে অপদস্থ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠে।
তিন দিন আগের ঘটনা হলেও শুক্রবার থেকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নানা সমালোচনা শুরু হয়। এমনকি সিলেট-৬ আসনের এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী তার ফেসবুক পেজে ঘটনার ব্যাখ্যার দাবি করেন। এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপমুখী অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে নেওয়া বাড়তি সতর্কতার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই যুবকের নাম সুমন আহমদ। তিনি বিয়ানীবাজার উপজেলার মোল্লাপুর গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে। গত ১৯ আগস্ট ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার জন্য ওসমানী বিমানবন্দরে যান তিনি।
সুমনের অভিযোগ, অটোরিকশাচালক হওয়ায় বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে নানাভাবে অপমান করে এবং পাসপোর্টে ক্ষতিকর সিল মারার হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। তিনি জানান, একজন আমেরিকা প্রবাসী তাকে ওমরাহ করার ব্যয়ভার বহন করেছেন। বর্তমানে তিনি এ ঘটনায় অনেকটা মানসিক আঘাত পেয়েছেন। তাকে নতুন করে সব ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, ‘সিএনজি অটোরিকশা চালক হওয়ায় ওমরাহ করতে দেওয়া হয়নি সুমনকে’-এমন বিষয় উল্লেখ করে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দেন। কেউ কেউ আবার সুমনের বক্তব্য প্রকাশ করেন। বিষয়টি নজরে আসার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ চৌধুরী।
শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমার এলাকার এক যুবক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও সিলেট এয়ারপোর্ট থেকে ওমরাহ করতে যেতে পারেননি। সামর্থ্য না থাকা এবং সিএনজিচালক হওয়ার কারণে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। ওমরাহ করা মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার। ঘটনাটি সত্যি হলে তা অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টি অবিলম্বে তদন্ত করে জনসম্মুখে ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি’। এমপি ইমরান আহমদের এই পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়।
অভিযোগের বিষয়ে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মনির জানান, কাউকে অপদস্থ করার উদ্দেশ্য তাদের নেই। সুমন যে পোশাকে এসেছিলেন, তা দেখে মনে হচ্ছিল তিনি বেড়াতে যাচ্ছেন। তার মধ্যে ওমরাহ যাত্রীর কোনো আলামত বা প্রতীক ছিল না। এতে আমাদের সন্দেহ হয়।
এসপি মনির আরও জানান, সম্প্রতি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টার সময় দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ সিলেটের তরুণ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ওসমানী বিমানবন্দরে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। অনেক তরুণ ওমরাহ ভিসায় মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে সেখান থেকে জীবন ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি ও মানবপাচার রোধ করতেই এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।