অঞ্জন রায়, নবীগঞ্জ | ২৬ আগস্ট, ২০২৬
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌরসভায় সরকারি অর্থে কেনা কোটি টাকা মূল্যের যানবাহন দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত ও অযত্নে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
পৌরসভার দুটি রোড রোলার ও একটি ট্রাক দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে গেছে। কোথাও ধরেছে জং, কোথাও জমেছে শেওলা ও লতাপাতা। একটি রোড রোলারের টায়ার মাটির নিচে দেবে গিয়ে সেটি রিংয়ের ওপর ভর করে আছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে নবীগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পৌর ভবনের সামনে পড়ে থাকা দুটি রোড রোলার দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় বিভিন্ন অংশে জং ধরেছে। একটি রোড রোলারের টায়ার মাটিতে দেবে গেছে। অন্যদিকে অচল ট্রাকটির বিভিন্ন অংশে শেওলা জমেছে এবং কোথাও কোথাও গজিয়েছে লতাপাতা। দীর্ঘদিন ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় যানবাহনগুলো এখন অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থার চেহারা নিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনগণের অর্থে কেনা মূল্যবান এসব সরকারি সম্পদ যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করায় বছরের পর বছর পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। অথচ পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে খানাখন্দ এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তূপ থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এতে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, বছরের পর বছর ফেলে রেখে মূল্যবান সরকারি সম্পদ নষ্ট করার পরিবর্তে দ্রুত যানবাহনগুলোর প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ করা দরকার। মেরামতযোগ্য যানবাহন দ্রুত সংস্কার করে কাজে লাগানো এবং সম্পূর্ণ অকেজো যানবাহন বিধি অনুযায়ী নিলামে বিক্রি বা অন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা উচিত। এতে একদিকে সরকারি সম্পদের অপচয় রোধ হবে, অন্যদিকে পৌরসভার আর্থিক ক্ষতিও কমবে।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী মো. শহিদুল হক বলেন, দুটি রোড রোলারই অকেজো। এর মধ্যে একটি হয়তো মেরামত করে চালু করা সম্ভব হতে পারে, অন্যটি চালু করা সম্ভব হবে না। একটি রোড রোলার আনুমানিক দুই বছর এবং অন্যটি আরও দীর্ঘ সময় ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। তবে ঠিক কতদিন ধরে এগুলো অচল, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
অচল ট্রাকটিও সম্পূর্ণ অকেজো বলে জানান পৌরসভার এই প্রকৌশলী। তাঁর ভাষ্য, যানবাহনগুলো অনেক পুরোনো এবং এগুলোর যন্ত্রাংশও খুবই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
অচল যানবাহনগুলো মেরামত বা নিলামে বিক্রির বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে প্রকৌশলী মো. শহিদুল হক বলেন, একবার মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছিল এবং তিনি প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়েছেন। তবে বর্তমানে এসব যানবাহনের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাতে পারেননি।
এদিকে, পৌরসভার কোটি টাকা মূল্যের এসব যানবাহন এভাবে অযত্নে পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার ঘটনায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।