কমলগঞ্জ প্রতিনিধি | ২৮ আগস্ট, ২০২৬
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নৈনারপার বাজার-ইসলামপুর ইউপি অফিস ভায়া কাঁঠালকান্দি বিওপি ক্যাম্প সড়কের মেরামত কাজ ২০২৫ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই বছরেও তা শুরু করেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর থেকে তাগিদপত্র দেওয়া হলেও তা তোয়াক্কা করছেন না ঠিকাদার। ফলে দিন দিন সংস্কারহীন সড়কটিতে কার্পেটিং উঠে গিয়ে খানাখন্দ দ্বিগুণ হারে বাড়ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। এতে প্রতিদিন যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় অধিবাসী ও পথচারীরা। অনতিবিলম্বে এ সড়কের কাজ শুরুর জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ রাস্তার অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পের আওতায় মৌলভীবাজার জেলা নিবার্হী প্রকৌশলীর কার্যালয় হতে এক প্যাকেজে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ৪ টি সড়কের টেন্ডার আহবান করা হয়। খরচ ধরা হয় প্রায় ১৪ কোটি টাকা।
টেন্ডারকৃত সড়কের মধ্য রয়েছে কমলগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ চৈত্রঘাট-নয়াবাজার ভায়া শহীদনগর সড়ক (৪ কিমি, চেই: ৬৭৪০-৮৫০০মি.), নৈনারপার বাজার-ইসলামপুর ইউপি অফিস ভায়া কাঁঠালকান্দি বিওপি ক্যাম্প সড়ক (১.৫ কিমি, চেই: ৮৬৬৮-১০২০০মি.) সড়ক দুইটি। যার প্যাকেজ নং: খএঊউ/ড-৩(ই)/গড়ঁষারনধুধৎ-২ এবং টেন্ডার আইডি: ৮৯৫৫৬৭। দুটি সড়ক মেরামত কাজের সমন্বিত প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ৫ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কুলাউড়ার মো: মুহিবুর রহমান ও আরএবিআরসি (প্রাইভেট) লিমিটেড (ঔঠ) ঠিকাদার নিবার্চিত হয়। ঠিকাদার ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল কার্যাদেশ পাওয়ার পর ২০২৫ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজটি বাস্তবায়ন করার নিধার্রিত সময় ছিল। ঠিকাদার মুহিবুর রহমান কোকিল প্রথম সড়কটির (চৈত্রঘাট-নয়াবাজার) কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করলেও নৈনারপার বাজার-ইসলামপুর সড়কটির কাজ বিগত দুই বছরেও শুরুই করেননি।
টেন্ডারপ্রাপ্তির ৫ মাস পরও কাজ শুরু না করায় ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে তাগিদ পত্র প্রেরন করা হয়। কিন্তু লিখিত তাগিদ দিলেও কাজ বাস্তবায়নে তিনি কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেননি। ফলে দুই বছর আগের ছোট ছোট ভাঙনগুলো এখন বিশালাকার গর্তে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে সড়কটিতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে পাথর ও মাটি বের হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলোতে পানি জমে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়।
বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)-র কাঁঠালকান্দি বিওপি ক্যাম্পের যাতায়াতসহ সীমান্ত এলাকার হাজার হাজার মানুষের মূল ভরসা এই সড়কটি। বর্তমানে সড়কটি দিয়ে কষ্ট করে যানচলাচল করছে। বিভিন্ন এলাকায় ছোট বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার পাশ ভেঙ্গে পড়েছে। সিএনজি অটোরিক্সা ও অন্যান্য যানবাহন দ্রুত চলাচল করতে পারে না।
স্থানীয় নইনারপারের বাসিন্দা ফয়সল আহমেদ, বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই বছর আগে সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার কথা শুনে আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম। কিন্তু ঠিকাদার ও দপ্তরের গাফিলতিতে আজ এই সড়কের মরণদশা। ঠিকাদারের এরকম স্বেচ্ছাচারিতা ও অবহেলা মেনে নেওয়ার নয়।
নিয়মিত এই রুটে যান চালানো সিএনজি চালক জুমের মিয়া, আব্দুল কাইয়ুম, বাদল বলেন, ভাঙা সড়কের কারণে প্রায় প্রতিদিনই গাড়ি নষ্ট হয়, চাকা পাংচার হয়। রোগী বা গর্ভবতী মায়েদের এই রাস্তায় নিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমরা আর এই কষ্ট সহ্য করতে পারছি না। নইনারপার বাজারের ব্যবসায়ী আলীম উদ্দিন জানান, সড়কটির অবস্থা খুব খারাপ। দুই বছর আগে সড়কটি যে ভঙ্গুর অবস্থা ছিল তা বতর্মানে দ্বিগুন বেড়েছে। নতুন করে বিভিন্ন স্থানে কাপের্টিং উঠে গেছে। স্থানীয় সমাজকর্মী দীপু আহমদ রাসেল বলেন, কমলগঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এসড়কটি দুই বছর খানাখন্দে ভরপুর। যারফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্কুল শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলজিইডির সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ঠিকাদার মুহিবুর রহমান কোকিল অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার বাড়ি কুলাউড়ায়। এলজিইডি ও সড়ক বিভাগের কয়েক কোটি টাকার কাজ মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান থাকায় এবং উচ্চমহলে যোগাযোগ ভালো থাকায় তিনি স্থানীয় অফিসের তাগিদকে কোনো পাত্তা দিচ্ছেন না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার মুহিবুর রহমান কোকিল বলেন, প্রথম সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা হয়েছে। তবে নৈনারপার অংশের বিটুমিন ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং পারিপার্শ্বিক কিছু জটিলতার কারণে কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেখানে সরঞ্জাম পাঠিয়ে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অদিদপ্তর (এলজিইডি) এর কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল আজম সড়কটি কাজ শুরু না করার কথা স্বীকার করে বলেন, অফিস হতে ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি দ্রুত কাজ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন।