Sylhet Today 24 PRINT

বড়লেখা সীমান্ত থেকে উদ্ধার ‘বিদেশি পিস্তল’, এজাহারে লেখা ‘ইয়ারগান’: যা বলছে বিজিবি ও পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ৩১ আগস্ট, ২০২৬

মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে গোলাগুলির পর এক ভারতীয় চোরাকারবারীকে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ আটক করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি)।

বড়লেখা সীমান্তবর্তী কুমারশাইল এলাকায় ওই অভিযানের পর বিজিবির পক্ষ থেকে দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গুলাগুলির পর আটক ওই ভারতীয় নাগরিকের কাছ থেকে ‘১টি বিদেশি পিস্তল, ২ রাউন্ড .২২ বোরের গোলাবারুদ ও ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট’ উদ্ধার করা হয়েছে।

২৭ আগস্ট ওই অভিযানের খবর শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সিলেটেটুডেসহ দেশের প্রায় সব গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে ওইদিন বড়লেখা থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়। তবে সংবাদ সম্মেলনে ‘১টি বিদেশি পিস্তল, ২ রাউন্ড .২২ বোরের গোলাবারুদ’ উদ্ধারের কথা জানানো হলেও এজাহারে ‘পিস্তল সদৃশ্য ইয়ারগান’। যার গায়ে ইংরেজিতে ‘RHINO TOY Air Pistol’ লেখা এবং ‘শিশা গুলি’ উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে গুলাগুলির কথাও উল্লেখ নেই।

উদ্ধারকৃত অস্ত্র নিয়ে বিজিবির সংবাদ সম্মেলন ও এজাহারে দুই ধরণের তথ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। তবে বিজিবির কর্মকর্তা বলছেন, এতে বিভ্রান্তির কিছু নেই। অস্ত্রের গায়ে যা লেখা ছিল তা এজাহারে প্রাথমিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্তে প্রয়োজনে সংশোধন করা হবে।

অভিযানের পর যা বলেছিল বিজিবি

শুক্রবার সকেলে বিজিবির পক্ষ থেকে দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার কুমারশাইল সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে ভারতীয় চোরাকারবারীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিজিবির বিশেষ অভিযানে ১টি বিদেশি পিস্তল, ২ রাউন্ড .২২ বোরের গোলাবারুদ এবং ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ১ জন ভারতীয় চোরাকারবারীকে আটক করা হয়েছে।’

এতে বলা হয়, ‘বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি) ২৭ আগস্ট দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে, ভারতীয় একটি চোরাকারবারী চক্র মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সীমান্তবর্তী কুমারশাইল এলাকা দিয়ে অস্ত্র ও মাদকের একটি চালান বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসবে। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহলদল রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কুমারশাইল এলাকায় কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।’

‘পরবর্তীতে চোরাকারবারী চক্রের সদস্যরা ওই এলাকায় আসলে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। এ সময় চোরাকারবারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। বিজিবি সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা ফায়ার করলে চোরাকারবারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করে একজন ভারতীয় চোরাকারবারীকে আটক করতে সক্ষম হন। এ সময় তার কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ২ রাউন্ড .২২ বোরের গোলাবারুদ এবং ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।’

‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তি সীমান্তবর্তী চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও মাদক বাংলাদেশে সরবরাহের উদ্দেশ্যে ভারত থেকে আনা হয়েছিল। এ ঘটনায় পলাতক চোরাকারবারীদের শনাক্ত ও আটকের লক্ষ্যে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

যা আছে এজাহারে
এ ঘটনায় বিজিবির হাবিলদার মং থোয়াই চিং মারমা বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় একটি এজাহার জমা দেন। তবে এজাহারে গুলাগুলির কোনো উল্লেখ নেই। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের তথ্যেও রয়েছে গড়মিল।

এজাহারে বলা হয়েছে, ‘দুই ব্যক্তি সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার পর বিজিবির অভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় একজনকে আটক করা হয় এবং অপরজন পালিয়ে যান।’

অস্ত্রের বর্ণনাতেও রয়েছে ভিন্নতা। বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রকে ‘একটি বিদেশি পিস্তল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘দুই রাউন্ড পয়েন্ট .২২ বোরের গোলাবারুদ’ উদ্ধারের কথা বলা হয়।

অন্যদিকে মামলার এজাহারে অস্ত্রটিকে বলা হয়েছে ‘পিস্তল সদৃশ্য ইয়ারগান’। সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অস্ত্রটির গায়ে ইংরেজিতে ‘RHINO TOY Air Pistol’ লেখা ছিল। আর দুই রাউন্ড গোলাবারুদকে এজাহারে ‘শিশা গুলি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্যের ভিন্নতা নিয়ে যা বলছে বিজিবি ও পুলিশ
প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য এবং এজাহারের ভিন্নতা নিয়ে জানতে চাইলে বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের (বিয়ানীবাজার) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান রোববার রাতে সিলেটটুডেকে বলেন, উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি একটি মডিফাইড অস্ত্র। গায়ে লেখা আছে একটি কিন্তু বাস্তবে অন্যটি। এছাড়া অস্ত্রের যে গুলি উদ্ধার করা হয়েছে সেগুলোও প্রাণঘাতি। এটি মডিফাইড অস্ত্র হওয়ায় আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য ফরেনসিকে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, এজাহারে প্রাথমিক অবস্থায় অস্ত্রের গায়ে যা লেখা আছে সেটুকু উল্লেখ করা হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট আসলে ও পরবর্তীতে তদন্ত শেষে তা সংশোধন করা যেতে পারে। ফলে এ নিয়ে বিভ্রান্তি বা সন্দেহের কিছু নাই।

এ বিষয়ে জানতে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান বলেন, বিজিবির এজাহার অনুযায়ী মামলা নেওয়া হয়। উদ্ধারকরা পিস্তল ও গুলি সদৃশ্য বস্তুটি ব্যালিস্টিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.