নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জেলা পর্যায়ে মন্ত্রী-এমপিদের উন্নয়ন ও আইশৃঙ্খলা সমন্বয়ের দায়িত্ব দেয়ায় কোনো সমন্বয়হীনতা কাজ করবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির।
মঙ্গলবার সিলেটে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি সমন্বয়হীনতা তো করবেই না, বরং দলীয় সাংগঠনিক অবস্থানটাকে একটা ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যেক জায়গায় দেখার- যাচাই করার, দলীয় শক্তির বিন্যাসের জন্য নতুন উদ্যম সংযোজন করবে।
গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ৬৪ জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, এবং সরকারের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ে ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে সিলেট-১ আসনের এমনপি খন্দকার মুক্তাদির পেয়েছেন হবিগঞ্জের দায়িত্ব আর সিলেটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হবিগঞ্জের এমপি ও হুইপ জিকে গউছকে।
অনেকেই জেলাভিত্তিক এই দায়িত্ববন্টনকে ভিন্ন নামে উচ্চ আদালত থেকে অসাংবিধানিক ঘোষিত ‘জেলা মন্ত্রী’ ফিরে আসা হিসেবে ক্যোয়িত করেছেন। এতে সমন্বয়হীনতার শঙ্কাও প্রকাশ করেছেণ কেউ কেউ। আর এই উদ্যোগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাউকোর্টে রিট করেছেন জামায়াত দলীয় ১১ এমপি।
তবে এই উদ্যোগের সমন্বয়হীতার শঙ্কা নেই জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, যে যেখানে কাজ করবেন তারাই দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। দল একটা পরিকল্পনা, কৌশল সামনে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন জনকে দায়িত্ব দিয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট নগরের কাজিরবাজারে নিজ বাসায় সিলেট মহানগর বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি পতাকা উড়িয়ে ও ফিতা কেটে দলের কার্যালয় উদ্বোধন করেন। পরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে আমদানি বেশি, রপ্তানি কম; এটা তো সাধারণ একটা কথা। বাংলাদেশে প্রচুর কাঁচামাল হয় না। সুতরাং শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমাদের বেশিরভাগ কাঁচামালের জন্য বাইরের পৃথিবীর উপর নির্ভর করতে হয়।
তিনি বলেন, এখনও দেশে প্রতিবছর প্রায় ৬০-৭০ লাখ টন গম আমদানি করতে হয়। চালে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ । অনেকগুলো কৃষি পণ্য যেগুলোর জন্য আগে বাইরের দেশের প্রতি নির্ভরশীল ছিলাম, সেগুলোতে ইতোমধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন হয়েছে৷
মন্ত্রী বলেন, এটি কোন অভিনব বিষয় না। পৃথিবীর বহু দেশ আমদানি বেশি রপ্তানি কম। কিছু দেশে রপ্তানি বেশি আমদানি কম। আমদানি কমে যাবে, রপ্তানি বেশি হয়ে যাবে তুলনামূলকভাবে, এটি খুব সহজসাধ্য বিষয় নয়।
তবে ট্রেড ভলিউম বৃদ্ধি করার পাশাপাশি নতুন নতুন বিনিয়োগ আনার মাধ্যমে রপ্তানির নতুন নতুন খাত চিহ্নিত করে সেখানে রপ্তানি প্রসার ঘটানো দরকার৷ এগুলো নিয়ে কাজ করছে সরকার, এ কাজের ফলাফল-সুফল ইনশাআল্লাহ দেখবেন- বলেন তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকে আমাদের সামনে উদযাপনের সময় নাই, সামনে এখন দেশগঠনের চ্যালেঞ্জ। আগামী দিনে সরকারের লক্ষ্য- মানুষের প্রত্যাশা মিটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন, যে সমস্ত লজিস্টিক সমস্যা আছে জ্বালানি স্বল্পতা সহ বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনা দূর করে বিপুলভাবে দেশে এবং বিদেশে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে অর্থনীতির মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করা।
তিনি বলেন, শিল্প, বাণিজ্য এবং অর্থনীতির যে সমস্ত খাত দেশজ উৎপাদনে নিয়ামক শক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তার প্রতিটিকে জোরদার করে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করে, মানুষের প্রত্যাশার হক আদায় করার জন্য যা যা করার দরকার, তা করছে সরকার।
অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।