Sylhet Today 24 PRINT

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসে’ আশা, সুষ্ঠু বিচার না হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত

নিহত আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের সন্তানদের সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দ্বিতীয়বার সংবাদ সম্মেলন করে মা-বাবা ও গৃহকর্মী খুনের সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার দাবি করেছেন সিলেটের রায়নগরে খুনের শিকার আব্দুস সাত্তারের সন্তানরা। তারা বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মহানগরের জল্লারপারস্থ খান হাউসে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

এতে আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের মেয়ে সেলিনা সুলতানা শিখা ও তারানা সুলতানা শিমু বক্তব্য রাখেন।

তারা বলেন- আমাদের দাবি একটাই, এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও সঠিক বিচার। গতকাল (মঙ্গলবার) আমরা মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি তুলে ধরেছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন- সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের। পাশাপাশি তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। আমরা এখন আশাবাদি, সঠিক বিচার পাবো।

মঙ্গলবার সিলেট সফরে আসা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. সালাহউদ্দিনের সাথে সাক্ষাত করেন আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের

তারা বলেন, আমরা সিলেটের সাংবাদিক ও সর্বস্তরের মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই, এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে থাকার জন্য। সিলেটবাসী আমাদের পরিবারের প্রতি যে সহযোগিতা ও সহমর্মিতা দিয়ে ন্যায় বিচারের জন্য সোচ্চার হয়েছেন, সেজন্য জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। এছাড়া সিলেটের সকল মন্ত্রী-এমপির প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাত্তার-সুরাইয়ার মেয়েরা বলেন- আমরা এজাহারে নির্দিষ্ট করে কারও প্রতি অভিযোগ তুলিনি। আমরা শুধু পুলিশের নজরে নিয়ে এসেছি যে, আমাদের বাবার জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে একজন আইনজীবির সঙ্গে। এখন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে তিনি জড়িত আছেন কি না সেটি বের করার দায়িত্ব পুলিশের।

বক্তব্যে তারা আরও বলেন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও যদি সুষ্ঠু বিচার না পাই তবে আমরা পরবর্তীতে এভাবে সংবাদ সম্মেলন করে সিলেটবাসীকে সিদ্ধান্ত জানাবো।

উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় খুন হন আওয়ামী লীগ নেতা ও সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক এম এ সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম (১৫)। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের দিন পুলিশ বাবুল মিয়া নামে এক রংমিস্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন বাবুল মিয়া।

তবে প্রথমে বাবুল মিয়ার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গৃহকর্মী তাহমিনার সাথে প্রেমের জেরে এই তিনজনকে হত্যা রেন বাবুল। আর আদেতে জবানবনিদতে তিনি বলেন, টাকা চুরি করতে গিয়ে ধরা পরে তিনজনকে হত্যা করেন।

বাবুল মিয়া বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পর (১৭ আগস্ট) নিজেদের বাসায় প্রথম সংবাদ সম্মেলন করে নিহত দম্পতির প্রবাসী ছেলে-মেয়েরা ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে পুলিশের তদন্ত সন্তোষজনক না হলে মামলাটি অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তরেরও দাবি জানিয়েছিলেন তারা।

গত সোমবার এই ইস্যুতে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতি, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও লিজগ্রহীতাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা কমিটি’। এতেঅিভিযোগ করা হয়, বাবুল আক্তারের কাছ থেকে জোর করে জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.