সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি | ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামতের কাজ না করেই অসম্পূর্ণ ভাউচার দাখিল করে টাকা উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত ৯ প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলো হলো- আশারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাড়গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দিঘলবাক (খ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জামারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মক্রমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গণেশ্বরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিরপুর মহল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মোহাম্মদপুর সেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ক্ষুদ্র মেরামত কাজের জন্য উক্ত ৯টি বিদ্যালয়ের বিপরীতে মোট ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ পায়, যা দিয়ে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার কথা ছিল। তবে কোনো প্রকার কাজ সম্পন্ন না করেই বরাদ্দকৃত অর্থ তুলে নিতে শিক্ষকরা ভুয়া ভাউচার জমা দেন বলে তদারকিতে উঠে আসে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর আলম স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে কুবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিপেশ দাস এবং মক্রমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরজ্জন বর্মন দাবি করেন, তারা বিদ্যালয়ে সংস্কার কাজ শেষ করার পরই ভাউচার জমা দিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর আলম বলেন, ‘সরকারি বরাদ্দের স্বচ্ছতা রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। কাজ না করেই অফিসে ভাউচার জমা দেওয়ার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে শোকজের সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’