সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি | ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে গরু চুরির অভিযোগে তিনজনকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের পা ভেঙে দেওয়া ও তিনজনের চোখ নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোরে দুটি গরুসহ একজনকে আটকের পর তার দেওয়া তথ্যে আরও দুজনকে বাড়ি থেকে ধরে আনা হয়। পরে সকালে বাংলাবাজারের কাছে পালইছড়া জান্নাতুল জান্নাত জামে মসজিদের সামনে তাদের ওপর এ নির্যাতন চালানো হয়।
নির্যাতনের শিকার তিনজন হলেন—দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বড়ইউড়ি গ্রামের হাসান আলীর ছেলে আবু বক্কর (৩৫), একই ইউনিয়নের পূর্ব গিলাতলী গ্রামের মৃত মফিজ আলীর ছেলে নিজাম উদ্দিন (৩০) ও ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের জোরাখানি গ্রামের মৃত শেরগুল মিয়ার ছেলে সোনাই মিয়া (২৫)। মাটিতে ফেলে তিনজনকে নির্যাতনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, আটক তিনজন মাটিতে পড়ে আছেন। তাদের শরীর অনাবৃত এবং নাক, মুখ ও চোখে চুন লাগানো। একজনের পা রক্তাক্ত। এ সময় স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি পুলিশকেও পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাতে দোয়ারাবাজারের ভক্তারপুর গ্রামের ইকবাল হোসেনের দুটি গরু চুরি করেন ছাতকের সোনাই মিয়া। বৃহস্পতিবার ভোরে পালইছড়া গ্রামের লোকজনের হাতে দুটি গরুসহ আটক হন তিনি। পরে তার তথ্যে আবু বক্কর ও নিজাম উদ্দিনকে আটক করে এলাকার লোকজন। সকালে খবরটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা সালিসে বসেন।
স্থানীয় শালীশ বৈঠকে বিএনপির নেতা মোরশেদ আলম, ইউপি সদস্য হানিফ আলী, সামাদ মিয়া, জাকির হোসেন, রতন মিয়াসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এসময় সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনজনের চোখ চুন দিয়ে গালানো হয়। আবু বাক্করের একটি পাও ভেঙ্গে দেয়া হয়। পরে উপস্থিতরা তিনজনকে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ তিনজনকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।
সালিশে উপস্থিতরা জানান, সালিশ চলাকালে তিনজনের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন শুরু করে। কুড়াল দিয়ে আঘাত করে আবু বক্করের ডান পা ভেঙে দেওয়া হয়। তিনজনের চোখে চুন ঢুকিয়ে তা নষ্ট করে দেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার এবং গরু দুটি জব্দ করে।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা মোর্শেদ আলম বলেন, চোরের উৎপাতে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। গরু চুরি হয়, মসজিদের মাইকের ব্যাটারি ও আইপিএসও চুরি হয়। আজকে এক চোরকে গরুসহ ধরে বাকি দুজনকে আটক করা হয়। চোরদের পুলিশে দিলে জামিনে বের হয়ে যায়। তাই সালিস বোর্ডের সিদ্ধান্ত হয়েছে—চোর ধরা পড়লে সাথে সাথে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে, গণধোলাইয়ে মারা গেলেও সালিস বোর্ড তা দেখবে।
ইউপি সদস্য হানিফ আলী বলেন, আমি এখন থানায় আছি, পরে ফোন দিন। এ বলেই তিনি সংযোগ কেটে দেন।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, স্থানীয়দের হাত থেকে তিনজনকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।