Sylhet Today 24 PRINT

আদালতের রায়ে জমির স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত, জুড়ীতে দখল বুঝে পাচ্ছে না মালিকপক্ষ

জুড়ী প্রতিনিধি |  ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর মৌজায় প্রায় ৩ একর ৭ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান হয়েছে বলে দাবি করেছে জমির মালিকপক্ষ। আদালতের রায়ে ওই জমিতে তাঁদের স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দাবি করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে জমি বুঝিয়ে দিতে প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ওই জমিতে বসবাসকারী কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি বলে অভিযোগ করেছে মালিকপক্ষ। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ ও তাঁর প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে এর নিন্দা জানিয়েছে তারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়ন জনমিলন কেন্দ্রে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জমির মালিক নিখিল চন্দ্র দাসের ছেলে শ্রীনিবাস চন্দ্র দাস (চুনু)। তিনি বলেন, প্রায় দেড় যুগ আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের রায়ে তাঁদের জমির স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন প্রশাসনের মাধ্যমে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়াই তাঁদের দাবি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর মৌজার এসএ খতিয়ান নম্বর ১২৫ ও আরএস খতিয়ান নম্বর ২৬০-এর আওতাধীন এসএ দাগ নম্বর ১৪০৩ ও ১৪০৪ এবং আরএস দাগ নম্বর ১৬৭১ ও ১৬৭২-এর মোট ৩ একর ৭ শতক জমির মূল মালিক ছিলেন দুই সহোদর জিতেন্দ্র কুমার দাস ও বারিন্ড কুমার দাস।

লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, বারিন্ড কুমার দাস নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেলে তাঁর সম্পত্তির মালিকানা জিতেন্দ্র কুমার দাসের কাছে যায়। জিতেন্দ্র কুমার দাসের তিন ছেলে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজন দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ। মৃত্যুর আগে জিতেন্দ্র কুমার দাস তাঁর সম্পত্তি বড় ছেলে নিখিল চন্দ্র দাসকে দলিল করে দেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

তবে স্বাধীনতার পর ওই ৩ একর ৭ শতক জমি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এর মধ্যে ২ একর ৮২ শতক জমি স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সরকারের কাছ থেকে একসনা বন্দোবস্ত নেন বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। পরে বন্দোবস্ত পাওয়া ব্যক্তিরা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রি করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত ওই জমির মালিকানা ফিরে পেতে ২০০৮ সালে আদালতে মামলা করেন নিখিল চন্দ্র দাস। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সম্প্রতি আদালতের রায়ে তাঁর স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তাঁর নামে জমির নামজারিও সম্পন্ন হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

জমির দখল বুঝে পেতে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে যাতে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয় এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকে, সে জন্য মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী–বড়লেখা) আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন।

এর ধারাবাহিকতায় গত ২৬ আগস্ট সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে জুড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান চুনু ও বিএনপি নেতা নাজমুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

শ্রীনিবাস চন্দ্র দাস বলেন, ওই সময় জমিতে বসবাসকারী কয়েকটি পরিবার তাঁদের জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে। তাঁর দাবি, ওই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকার সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।’

শ্রীনিবাস চন্দ্র দাস আরও বলেন, ‘দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালতের রায়ে জমির স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত জমির দখল প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হোক।’

সংবাদ সম্মেলনে এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য তুলে ধরার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন জমির মালিকপক্ষের লোকজন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.