Sylhet Today 24 PRINT

‘চেয়ারম্যানকে না জানিয়ে’ প্রবাসীর আয়োজন: সুনামগঞ্জে নৌকাবাইচ বন্ধ চান প্যানেল চেয়ারম্যান

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি |  ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইউনিয়ন পরিষদকে না জানিয়ে নৌকাবাইচের আয়োজনের আয়োজন করায়, ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন প্যানেল আবেদন। সুনামগঞ্জের পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রুজেল আহমদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এই আবেদন করেছেন। এতে কয়েক বছর ধরে চলা এই আয়োজন হুমকির মুখে পড়েছে।

জানা যায়, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর, বুধবার, শান্তিগঞ্জ উপজেলার খাই হাওরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বিশাল নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। উপজেলার ধলমৈশা গ্রামের বাসিন্দা, ইংল্যান্ডপ্রবাসী আবুল হোসেন তার নিজ গ্রাম ও হাঁসকুড়ি গ্রামকে সঙ্গে নিয়ে এ আয়োজন করেন। কিন্তু আয়োজনের আগে তিনি ইউপির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যানকে অবহিত করেননি। এতে সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে, এই দাবি জানিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে করা আবেদনপত্রে পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান-১ রুজেল আহমদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর কাছে নৌকা বাইচ বন্ধ চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন।

ইউএনওর কাছে করা আবেদনে তিনি এই আয়োজনকে ঘিরে সংঘাতের আশঙ্কা করছেন। তবে আয়োজক বলছেন, কয়েক বছর ধরে চলা এই আয়োজনের সংঘাতের কোনো আশঙ্কা নেই।

ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের অবগত করা হয়নি বা তাদের সঙ্গে কোনো রকমের আলোচনা করা হয়নি। নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতাটি বাতিলের দাবি জানানোর বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন।

পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ রুজেল আহমদ বলেন, লন্ডনী সাহেব যে আয়োজন করেছেন, তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু তিনি আমাদের কাউকে বিষয়টি অবগত করেননি। একজন মানুষ আত্মহত্যা করলে কিংবা একটি বাল্যবিবাহ হলে সারাদিন-রাত আমাকে বিষয়টি সামলাতে হয়। কিন্তু এত বড় একটি বিষয় তিনি বীরগাঁওয়ের অনেক মুরুব্বি, আমার পরিষদসহ কাউকেই অবগত করেননি। কোনো সমস্যা হলে আমি কি দায় এড়াতে পারব? তাছাড়া, এই খেলাকে ঘিরে ফেসবুকে নানান কথা ছড়াচ্ছে। হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। একটি সমস্যা হবে ভেবে আবেদন করেছি। এটি আমার একার সিদ্ধান্ত নয়, পরিষদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত।

প্রবাসী ও নৌকা বাইচের আয়োজক আবুল হোসেন বলেন, আমি এই আয়োজন দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছি। মূলত গ্রামবাংলার ঐতিহ্য রক্ষায় নৌকা বাইচের আয়োজন করি। এর আগে কখনো কোনো ঝামেলা হয়নি, এ বছরও হবে না। কে বা কারা কোন বিষয় নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি বা গালাগালি করছে, তা আমার জানা নেই। আমার কোনো লোক এমন কাজ করছে বলে আমি জানি না।

তিনি বলেন, হাঁসকুড়ি, ধলমৈশা, উলারপিঠা, শান্তিপুর ও বাবনগাঁওসহ পাঁচ গ্রামকে নিয়ে এই আয়োজন। আয়োজকরা সবাই পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাই তাদের নিয়ে আয়োজন। তাছাড়া, তলা (নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হওয়ার স্থান) পশ্চিম বীরগাঁওবাসীরও। দুইটা গ্রাম আলাদা, ইউনিয়নটাও আলাদা। আমি মারামারির জন্য নৌকা বাইচের আয়োজন করি না। আর অভিযোগের বিষয়েও কিছুই জানি না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিল্লোল চাকমা বলেন, ‘আমি দিনের বেলা জেলায় মিটিংয়ে থাকায় অভিযোগপত্র হাতে পাইনি। তবে প্যানেল চেয়ারম্যান আমাকে ফোন করে বিষয়টি অবগত করেছেন। আমি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। ওসি সাহেবের কাছেও এই অভিযোগটা আছে। তার সঙ্গেও আলাপ করেছি। এই বিষয়ে উভয়পক্ষের কথা শুনব। এ ধরনের প্রোগ্রামে যদি শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয় তাহলে এ ধরনের প্রোগ্রামের অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। নৌকাবাইচ একটি ঐতিহ্যবাহী বিষয়। তাই বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করব।’

শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলী উল্লাহ বলেন, আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। ইউএনও সাহেব আমাকে জানিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখব।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.