নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সিলেট বিভাগের গ্রামীণ সড়ক, নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে নেওয়া বড় প্রকল্পগুলোর কাজ শিগগিরই শুরু হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যোগাযোগব্যবস্থাসহ নগরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগর ভবন প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাগরিক সংবর্ধনা ও সুধী সমাবেশে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট বিভাগের গ্রামীণ রাস্তাঘাটে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে ৩২৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন হলে চলতি শীত মৌসুমেই সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ সড়কের উন্নয়নকাজ ব্যাপকভাবে শুরু করা যাবে।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাঁর আগের কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ছিলেন, তখন সিলেটের গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের বিষয়ে তাঁকে একটি ডিও দেওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি তখন দ্রুত বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জায়গায় পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
সিলেট নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় প্রকল্প নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির বৈদেশিক অর্থায়নের অনুমোদনও পাওয়া গেছে। শিগগিরই এর কাজ শুরু করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের উন্নয়নকাজ নিয়ে তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে জমি অধিগ্রহণ পুরোপুরি সম্পন্ন না করেই ছয় লেনের সড়কের কাজ শুরু করা হয়েছিল। এতে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হয়। বর্তমানে সেসব জটিলতা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা হয়েছে।
তিনি বলেন, কয়েকটি অংশ ছাড়া মহাসড়কের বাকি এলাকায় কাজ এগিয়ে চলছে। ২০২৮ সালের মধ্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কাজ শেষ করার আশা রয়েছে।
রেল যোগাযোগ উন্নয়নের প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রিসভায় থাকাকালে তাঁর উপস্থিতিতে আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত রেললাইন উন্নয়নের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে এর কাজও এগিয়ে নেওয়া হবে।
সিলেট-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি রেল যোগাযোগের উন্নয়নেও সরকার কাজ করবে বলে উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর এখন মানুষের প্রত্যাশা পূরণের সময় এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ত্যাগ ও প্রাণহানির বিনিময়ে বর্তমান অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। তাই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের ন্যায্য দাবির জন্য দীর্ঘদিন সংগ্রাম, ধৈর্য ও দেশপ্রেম থাকলে কঠিন আন্দোলনও একসময় যৌক্তিক পরিণতিতে পৌঁছায়। রাষ্ট্রপতির আজকের উপস্থিতি তারই একটি প্রমাণ।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বাধীন সরকার আগামী দিনে মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে যতটুকু পরিশ্রম করা প্রয়োজন, ততটুকুই করবে। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার যেন যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে জন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।