Sylhet Today 24 PRINT

ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই ভরসা, দুর্ভোগে ৬–৭ গ্রামের মানুষ

‎মতিউর রহমান, গোয়াইনঘাট |  ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১নং রুস্তমপুর ইউনিয়নের টেকনাগুলে দীর্ঘদিন ধরে একটি ব্রিজের অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কয়েকটি গ্রামের প্রায় ১৪ হাজার মানুষ। যুগের পর যুগ ধরে এলাকাবাসী একটি ব্রিজের দাবি জানিয়ে এলেও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি সেই দাবি।

ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন পারাপার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষসহ স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের।

‎সরেজমিনে টেকনাগুল এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৬ থেকে ৭টি গ্রামের মানুষের চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। টেকনাগুলে দীর্ঘদিনের ভাঙনের কারণে স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বর্ষাকালসহ বছরের প্রায় পুরো সময়ই সেখানে পানি থাকে। ব্রিজ না থাকায় স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে কোনোভাবে চলাচল করছেন।

‎এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোই এখন হাজারো মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে আতঙ্কের কারণ।

‎স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন বাঁশের সাঁকো পার হয়ে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় যেতে হয়। সাঁকোটি পার হওয়ার সময় সবসময় ভয় কাজ করে। বর্ষাকালে পানি বেড়ে গেলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। অনেক সময় সাঁকো পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটে। বছরের ১২ মাসই এভাবেই চলাচল করতে হয় তাদের।

‎শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, অসুস্থ রোগী ও প্রসূতি নারীদের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে হয়। স্থানীয়দের দাবি, অতীতে নৌকায় করে পারাপারের সময়ও দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ফলে একটি ব্রিজের অভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা শুধু দুর্ভোগই নয়, মানুষের জীবনকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

‎ব্রিজ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে যেমন বাড়তি সময় ও খরচ হচ্ছে, তেমনি ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও সৃষ্টি হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা। স্থানীয়দের মতে, টেকনাগুলে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি আসবে।

‎স্থানীয় পীরের বাজারের টেকনাগুল এলাকার ব্যবসায়ী ও তরুণ সমাজসেবক নাসির উদ্দীন বলেন, “এলাকার মানুষ এখানে একটি ব্রিজ না থাকার কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কয়েক যুগ পেরিয়ে গেলেও সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্তমানে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।”

‎তিনি আরও বলেন, “এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে। একই সঙ্গে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের জোর দাবি, মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে টেকনাগুলে দ্রুত একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।”

‎এলাকাবাসীর ভাষ্য, টেকনাগুলে ব্রিজ নির্মাণ এখন আর শুধু একটি স্থানীয় দাবি নয়—এটি প্রায় ১৪ হাজার মানুষের নিরাপদ চলাচল, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থে একটি জরুরি প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগ নিরসনে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ চান তারা।

‎স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে টেকনাগুলে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ এবং নিরাপদ হবে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.