Sylhet Today 24 PRINT

শাল্লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: লোডশেডিংয়ে চলে না জেনারেটর, দুর্ভোগে রোগীরা

শাল্লা প্রতিনিধি |  ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র লোডশেডিংয়ে চলছে না জেনারেটর। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলেই স্থবির হয়ে পড়ছে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা। তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া রোগীদের ভোগান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে; সুস্থ হতে এসে উল্টো আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন রোগীরা।

চলতি বছরের ২৭ জুন সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর ব্যক্তিগত অর্থায়নে ১২ কিলো ওয়াটের একটি নতুন জেনারেটর হাসপাতালে প্রদান করা হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর চালানোর কথা থাকলেও চালানো হয় না।

সোমবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, পুরো হাসপাতাল চত্বর ঘুটঘুটে অন্ধকারে নিমজ্জিত। জেনারেটর বন্ধ থাকলেও নার্স স্টেশনে আইপিএসে ফ্যান চলছে। শিশু ওয়ার্ডের ভেতরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা এতটাই বেশি যে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়াও কঠিন। গরমে কষ্ট পাচ্ছিলেন শয্যা ও মেঝেতে শুয়ে থাকা রোগীরা। শিশু, বৃদ্ধ ও গুরুতর অসুস্থদের স্বজনেরা অনবরত হাতপাখা ও কাগজের ঢাল দিয়ে বাতাস করার চেষ্টা করছেন। অনেকেই একটু খোলা বাতাসের আশায় ওয়ার্ড ছেড়ে করিডর, বারান্দা কিংবা হাসপাতালের বাইরে এসে আশ্রয় নিয়েছেন।

মন্নানপুর গ্রামের ইন্নছ মিয়া তার বাচ্চাকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬দিন যাবত ভর্তি আছেন। কিন্তু তার অসুস্থ সন্তানকে শয্যায় (বেডে) নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই চলে গেল বিদ্যুৎ, বন্ধ হয়ে গেল মাথার ওপরের ফ্যান।

ইন্নছ মিয়া বলেন, ‘সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যদি এমন নাজুক অবস্থা হয়, তাহলে আমরা সাধারণ গরিব মানুষ কোথায় যাব?’

অসুস্থ নাতিকে নিয়ে ভর্তি আছেন সুলতানপুর গ্রামের রাজিয়া বেগম। বিদ্যুৎ চলে গেলেও জেনারেটর পাওয়া যায় না। গরমে আমার নাতি আরো গুরুতর অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি। এরকম অভিযোগ হাসপাতালে চিকিৎসারত সব রোগীদের।

এসময় কতব্যরত চিকিৎসক সোহেল রানাকে ইমার্জেন্সি রুমে পাওয়া যায় নি। ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, কারেন্ট চলে গেলে জেনারেটর চালানো হয়। আজকে হয়তো একটু মিসটিক হয়েছে।

এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবব্রত আইচ মজুমদার বলেন, ইমার্জেন্সি সময়ে জেনারেটর চালানো হয়। সোমবার কেন চালায় নি বিষয়টি দেখবো।

জ্বালানী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার থেকে কোন বরাদ্দ নেই। তবে মাস শেষে অফিস থেকে তেল খরচটা বহন করা হয়।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.