Sylhet Today 24 PRINT

সিলেটে তরুণীকে হত্যা: প্রাক্তন স্বামী ও তার বন্ধুর মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সিলেটের গোয়াইনঘাটের জাফলংয়ে গার্মেন্টকর্মী রুনা আক্তার সাথী (১৯) হত্যা মামলায় তার সাবেক স্বামী ও স্বামীর বন্ধুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক শেখ নাজমুন নাহার এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনই আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. কবীর হোসেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন গাজীপুরের জয়দেবপুরের বুরুলিয়া গ্রামের মুছা খানের ছেলে নাজমুল হাসান খান (২৩) এবং শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার লংপাড়া হাওলাচর গ্রামের আদম আলীর ছেলে সুজন মিয়া (২০)।

মামলার নথি ও আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আসারগাঁও এলাকার রুনা আক্তার সাথী গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সেখানে বাসের হেলপার নাজমুল হাসান খানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তাঁরা বিয়ে করেন। তাঁদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়।

পরে ওই সন্তানকে নাজমুল তাঁর বন্ধু সুজন মিয়ার ফুফুর কাছে দত্তক দেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। সন্তানকে ফিরে পেতে সাথী একাধিকবার চেষ্টা করেও সফল হননি। একপর্যায়ে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, বিবাহবিচ্ছেদের পরও নাজমুল গার্মেন্টে যাতায়াতের পথে সাথীকে বিরক্ত করতেন। পরে ছেলের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ২০১০ সালের ১২ মে তাঁকে সিলেটে নিয়ে আসেন নাজমুল।

পরদিন দুপুরে নাজমুল ও তাঁর বন্ধু সুজন সাথীকে জাফলংয়ের সোনাটিলা ফরেস্ট এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার তিন দিন পর, ১৫ মে নিহত সাথীর বাবা নাজমুল হক গোয়াইনঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

পুলিশের তদন্তে নাজমুল হাসান খান গ্রেপ্তার হন। মামলার নথি অনুযায়ী, পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে হত্যার ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা উঠে আসে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক শহীদুল্লাহ নাজমুল হাসান খান ও সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। পরে নাজমুল জামিনে মুক্তি পান। মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত বুধবার রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আল আসলাম মুমিন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফারহানা হাবিব চৌধুরী।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.