সিলেটটুডে ডেস্ক | ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রের নিয়মিত কণ্ঠশিল্পীদের সংগঠন ‘বেতার কণ্ঠশিল্পী সংসদ’ এর নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বেতার শিল্পীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, সকল কণ্ঠশিল্পীকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা এবং পারস্পরিক ঐক্য, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার প্রত্যয় নিয়ে নতুন কমিটির যাত্রা শুরু হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সিলেট মহানগরীর জিন্দাবাজারস্থ নজরুল একাডেমির হলরুমে সংগঠনের সাধারণ সভায় (২০২৬-২০২৮) দুই বছরের জন্য ৪১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এতে কণ্ঠশিল্পী এ. এম. এজাজকে সভাপতি এবং কণ্ঠশিল্পী এস. এম. শাহজাহানকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়েছে। সংগঠনটির সদ্য বিদায়ী আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস নতুন কমিটি ঘোষণা করেন।
নতুন কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন কন্ঠশিল্পী সুকমল সেন। সহসভাপতি পদে মনোনীত হয়েছেন কণ্ঠশিল্পী প্রদীপ কুমার দে, শ্যামল দেবনাথ ও শেখ আব্দুল কাইয়ুম।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত হয়েছেন বাউল সূর্যলাল দাস ও কণ্ঠশিল্পী সৌরভ সোহেল। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে কণ্ঠশিল্পী শাহ আলম চৌধুরী মিন্টু এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক পদে কণ্ঠশিল্পী সোহেল রানা দায়িত্ব পেয়েছেন।
কোষাধ্যক্ষ পদে মনোনীত হয়েছেন কণ্ঠশিল্পী সুমন পুরকায়স্থ। প্রচার সম্পাদক পদে কণ্ঠশিল্পী ও সিনিয়র সাংবাদিক সমরেন্দ্র বিশ্বাস এবং সহপ্রচার সম্পাদক পদে কণ্ঠশিল্পী আশরাফুল ইসলাম অনি দায়িত্ব পেয়েছেন। দপ্তর সম্পাদক পদে কণ্ঠশিল্পী ও সাংবাদিক সন্দীপন শুভ এবং সহদপ্তর সম্পাদক পদে বাউল শীতন বাবুকে মনোনীত করা হয়েছে।
সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে কণ্ঠশিল্পী অ্যাডভোকেট সত্যজিৎ কুমার দাস রিপন এবং সহ সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে কণ্ঠশিল্পী শাকিল আহমদ কয়েছ দায়িত্ব পেয়েছেন। সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে কণ্ঠশিল্পী বাবুল বৈদ্য এবং সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে কণ্ঠশিল্পী হাসনাত কবির মনোনীত হয়েছেন।
মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা পদে কণ্ঠশিল্পী কাকলী দত্ত এবং সহমহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা পদে কণ্ঠশিল্পী রুমা রানী দেব দায়িত্ব পেয়েছেন। ক্রীড়া সম্পাদক পদে কণ্ঠশিল্পী শিব্বির আহমেদ এবং সহক্রীড়া সম্পাদক পদে কণ্ঠশিল্পী অপু দাস মনোনীত হয়েছেন।
কার্যকরী সদস্য হিসেবে রয়েছেন কণ্ঠশিল্পী মিতালি চক্রবর্তী, কন্ঠশিল্পী আব্দুর রহিম কয়েছ,কন্ঠশিল্পী শেখ আব্দুর রহিম খোকন, কন্ঠশিল্পী এম. এইচ. নিজাম, কন্ঠশিল্পী মুক্তা মাহমুদ, কন্ঠশিল্পী ইকবাল সাঁই, কন্ঠশিল্পী সোহেল আহমদ, কন্ঠশিল্পী মো. শফিক আহমদ, কন্ঠশিল্পী বাউল পথিক রাজু, বাউল তারা মিয়া, কন্ঠশিল্পী সাজ্জাদ সুমন, কন্ঠশিল্পী মো. ফয়সাল আহমেদ, কন্ঠশিল্পী নিউটন তালুকদার,কন্ঠশিল্পী বিজুলী রানী সিনহা, কন্ঠশিল্পী লাবনী পাল,কন্ঠশিল্পী জুই রায়, কন্ঠশিল্পী ফারজানা আক্তার ও কন্ঠশিল্পী অমিতাভ চক্রবর্তী অমি।
এর আগে বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী হিমাংশু বিশ্বাসকে প্রধান উপদেষ্টা করে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। পরিষদে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে হিমাংশু বিশ্বাস ছাড়াও রয়েছেন বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী জামাল উদ্দিন হাসান বান্না, সিনিয়র শিল্পী অনিতা সিনহা, সিনিয়র কণ্ঠশিল্পী মালতী দেব, বর্ষীয়ান কণ্ঠশিল্পী রানা কুমার সিনহা, সিনিয়র কণ্ঠশিল্পী অর্চনা দেব, বাউল বিরহী কালা মিয়া, জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ডা. জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী, বাউল বিরহী লাল মিয়া, বাউল শাহ নুর জালাল, শাহ আলী নুর, সিনিয়র কণ্ঠশিল্পী বিজন রায়, বাউল জুয়েল আহমদ, সিনিয়র কণ্ঠশিল্পী গৌতম চক্রবর্তী, বাউল আব্দুল খালিক, সিনিয়র কণ্ঠশিল্পী অরুণ কান্তি তালুকদার ও কণ্ঠশিল্পী নারায়ণ দাস।
সাধারণ সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ করা হয়। পরে কণ্ঠশিল্পী এস. এম. শাহজাহান ও সৌরভ সোহেলের সঞ্চালনায় এবং বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী হিমাংশু বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
সভায় বক্তব্য দেন কণ্ঠশিল্পী প্রদীপ কুমার দে, কণ্ঠশিল্পী অধ্যাপক বিজন কুমার রায়, ডা. জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী, বাউল বিরহী কালা মিয়া, শাহ আলী নূরসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের শিল্পীরা।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য ও অবহেলার সম্মুখীন হয়ে আসছেন। শিল্পীদের ন্যায্য অধিকার, সম্মান ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন জটিলতা রয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ নানা কারণে অনেক শিল্পী তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তারা বলেন, শিল্পীরা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নন; দেশ ও সমাজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ভাষা ও লোকজ সংস্কৃতিকে ধারণ ও লালন করার ক্ষেত্রে কণ্ঠশিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশ বেতারের মতো রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা শিল্পীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিল্পীদের মধ্যে বিভাজন নয়, পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও সৌহার্দ্যের ভিত্তিতে একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, বেতার কেন্দ্রের বিদ্যমান অনিয়ম ও বৈষম্য দূর করতে শিল্পীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে শিল্পীদের পেশাগত অধিকার, সম্মানী, সুযোগ-সুবিধা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, সংগঠনটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়; বরং বেতারের সকল কণ্ঠশিল্পীর ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করবে। পারস্পরিক মতপার্থক্যকে পাশ কাটিয়ে সকল শিল্পীকে একই ছাতার নিচে নিয়ে এসে একটি ঐক্যবদ্ধ, বৈষম্যহীন ও প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে তোলাই হবে তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তারা আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সুযোগ তৈরি, সিনিয়র শিল্পীদের অভিজ্ঞতার যথাযথ মূল্যায়ন এবং বেতারের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করতে সংগঠনটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সিলেটের নিজস্ব লোকসংগীত ও আঞ্চলিক সংস্কৃতিকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
সভা শেষে বেতার কণ্ঠশিল্পী সংসদের প্রয়াত সকল শিল্পীর স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।