দিরাই | ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে এক নারীর ছবি সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত ও অশ্লীলভাবে সম্পাদনা করে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পিকলু সরকার (৩০) ও তুষ্টি তালুকদার (২৮) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
গ্রেপ্তার দুজন সম্পর্কে প্রেমিক-প্রেমিকা বলে জানা গেছে। সিলেটে দায়ের করা সাইবার মামলায় সোমবার তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত পিকলু সরকার দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের সজনপুর গ্রামের নগেন্দ্র সরকারের ছেলে ও একই ইউনিয়নের খাঘাউড়া গ্রামের রমা তালুকদার মেয়ে ধামাইল শিল্পী তুষ্টি তালুকদার।
মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ১৮, ২৫ ও ২৭ ধারায় মামলাটি করেন।
অভিযোগে বলা হয়, আসামিদের নামে থাকা ফেসবুক আইডি থেকে ভুক্তভোগীর ছবি সংগ্রহ করা হয়। পরে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবিটি বিকৃত ও কুরুচিপূর্ণভাবে সম্পাদনা করে পিকলু সরকারের সঙ্গে যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। শুধু তাই নয়, সম্পাদিত অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ভুক্তভোগীর স্বামী এবং পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোনে পাঠানো হয়েছে বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই সিলেট। তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পিকলু সরকার ও তুষ্টি তালুকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে পিকলু সরকার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে পিকলু সরকার তুষ্টি তালুকদারকে তার প্রেমিকা হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে ভুক্তভোগী নারীর ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ঘটনায় তুষ্টির কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। আদালত পিকলু সরকারের জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলার তদন্ত অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পিকলু সরকারের বিরুদ্ধে এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের টার্গেট করে অশ্লীল ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগ ছিল। এসব ঘটনায় মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেলেও তিনি একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।
একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে কার কী ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে, তা যাচাইয়ে অন্যান্য তথ্য-প্রমাণও পরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।