হবিগঞ্জ প্রতিনিধি | ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে একটি পরিবারকে নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাদের প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বগাডুবী রেললাইনের মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যাহার হওয়া ওই দুই পুলিশ সদস্য হলেন– চুনারুঘাট থানার এসআই মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রুহুল আমিন। তারা বাবা-মেয়েসহ একটি পরিবারের তিন সদস্যকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেরাই ফেঁসে যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার, চুনারঘাট-মাধবপুর সার্কেল মোহাম্মদ রাফিউর রহমান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলার কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া, তাঁর মেয়ে জাসমিন আক্তার ও ছোট ভাই ইউনুস মিয়া প্রতিবেশীর সঙ্গে রাস্তা নিয়ে বিরোধের একটি মামলার হাজিরা দিতে হবিগঞ্জ আদালতে যাওয়ার উদ্দেশে ইজিবাইকে রওনা দেন। পথিমধ্যে বগাডুবী রেললাইনের মোড়ে পৌঁছালে এসআই মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাদের ইজিবাইকের গতিরোধ করে। এ সময় তাদের তল্লাশির কথা বলে ছায়েদ মিয়ার পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দেন এসআই মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রুহুল আমিন। পরে তাদের আটক করে চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এক পর্যায়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে প্রায় সাত ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
ছায়েদ মিয়া ও তাঁর মেয়ে জাসমিন আক্তার বলেন, বগাডুবী রেললাইনের মোড়ে পৌঁছালে এসআই মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাদের গতিরোধ করে। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিও পুলিশের সঙ্গে ছিলেন। পরে তাদের তল্লাশি করে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দেখানোর চেষ্টা করা হয়। এক পর্যায়ে তাদের পুলিশের গাড়িতে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সাত্তার মোল্লা বলেন, ছায়েদ মিয়ার সঙ্গে তাঁর প্রতিবেশীর রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা-মোকদ্দমা চলছে। শুক্রবার এ মামলায় তারা হাজিরা দিতে হবিগঞ্জ যাচ্ছিলেন। পরে জানতে পারেন রাস্তায় তাদের পুলিশ ইয়াবাসহ আটক করেছে। আটক ব্যক্তিরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন বলে জানেন তিনি। ঘটনার কথা শুনে থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
অভিযোগ ও প্রত্যাহারের ব্যাপারে জানতে এসআই মাসুম আল মামুনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ না থাকায় ছায়েদ আলীসহ তাঁর পরিবারের লোকজনকে শুক্রবার বিকেলে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিষয়েও তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ব্যবস্থা নিয়েছেন।
সহকারী পুলিশ সুপার চুনারঘাট-মাধবপুর সার্কেল মোহাম্মদ রাফিউর রহমান বলেন, একটি নিরীহ পরিবারকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগে তাদের প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।