বানিয়াচং প্রতিনিধি | ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে। এদের একজন ফাবিয়া তাবাসসুম মীম ও অপরজন রাকিবুল হাসান।
নিখোঁজের বেশ কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও তাদের সন্ধান মিলছে না। এতে পরিবারগুলোতে উৎকণ্আ বিরাজ করছে।
বানিয়াচংয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সহপাঠীদের সঙ্গে মাদরাসায় যায় ফাবিয়া তাবাসসুম মীম। মাদরাসার ছুটির পর অন্য শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরলেও মীম আর বাড়িতে ফেরেনি। পরে পরিবারের লোকজন মাদরাসায় গিয়ে তার বই-খাতা ও ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন। কিন্তু মীমের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ মীম বানিয়াচং উপজেলার ১ নম্বর উত্তর-পূর্ব ইউনিয়নের চতুরঙ্গ রায়ের পাড়া এলাকার খোয়াজ আলী মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় দারুল হিকমাহ তালীমুল কুরআন একাডেমির তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে বানিয়াচং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়। স্থানীয়ভাবেও মাইকিং করা হয়। মীমের সন্ধানের দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধনও করেন। তবে নিখোঁজের ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মীমের সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।
সম্প্রতি বানিয়াচং উপজেলার ১৪নং মুরাদপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের রাকিবুল হাসান (১৫) নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে সে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুতাং নোয়াগাঁও হাজিফিয়া মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, রাকিবুল মাদ্রাসায় পৌঁছায়নি। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পাওয়ায় ২৮ সেপ্টেম্বর বানিয়াচং থানায় জিডি করা হয়।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক জানান, মীম ও রাকিবুল নিখোঁজের ঘটনায় থানায় জিডি হওয়ার পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তাদের উদ্ধারে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। দেশের সব থানায় ম্যাসেজ দেয়া হয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।