রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর | ০১ অক্টোবর, ২০২৬
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছয় বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এই পদে একজন প্রধান শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও মামলা ও প্রশাসনিক জটিলতায় এত দিন তার যোগদান হয়নি। সম্প্রতি মামলার নিষ্পত্তির পর যোগদানের জন্য আবেদন করেছেন ওই শিক্ষক। তবে এখনো তাকে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
বিদ্যালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে বদলির জন্য ২০১৯ সালের ৯ ডিসেম্বর রতিয়ারপাড়া বাদশা মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গণেশ চক্রবর্তীকে আদেশ দেওয়া হয়। এর পরদিন, ১০ ডিসেম্বর একই পদে দক্ষিণ হবিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র দাসকেও বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
একই পদে দুজনকে বদলির আদেশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। গোপাল চন্দ্র দাস প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। মামলায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট শাখার পরিচালক, সিলেটের উপপরিচালক, সুনামগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জগন্নাথপুরের উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং গণেশ চক্রবর্তীকে বিবাদী করা হয়।
মামলার পর প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল গণেশ চক্রবর্তীর বদলির আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। পরে দীর্ঘদিন মামলার কার্যক্রম চলতে থাকে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ২৫ মে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করেন গণেশ চক্রবর্তী।
জানা যায়, দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৬ সালের ১৮ আগস্ট আপিল বিভাগ গোপাল চন্দ্র দাসের করা মামলাটি খারিজ করে দেন। এরপর ওই রায়ের ভিত্তিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর জগন্নাথপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে যোগদানের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে আবেদন করেন গণেশ চক্রবর্তী। তবে এখন পর্যন্ত তার যোগদান নেওয়া হয়নি।
গণেশ চক্রবর্তী বলেন, ‘জগন্নাথপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে বদলির জন্য আমি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আবেদন করেছিলাম। মহাপরিচালক আমাকে বদলির আদেশ দেন। পরে গোপাল দাস ওই আদেশের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। ছয় বছর পর মামলাটি খারিজ হয়ে আমার পক্ষে রায় এসেছে। এখন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমার যোগদান নিচ্ছেন না।’
মামলার বাদী গোপাল চন্দ্র দাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে বলে স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন ব্যক্তিরা অভিযোগ করে জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকা এবং আদালতের জটিলতা শেষ হওয়ার পরও যোগদান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়া দুঃখজনক।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘অনেক দিন ধরে মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদটি শূন্য, এটা শুনেছি। যোগদানের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মতামতের জন্য বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসে পাঠিয়েছেন।’
সুনামগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস বলেন, ‘আপিল বিভাগের রায়ে বলা হয়েছে, রায়ের আলোকে প্রধান শিক্ষক গণেশ চক্রবর্তীর যোগদানে বাধা নেই।’
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর আলম বলেন, ‘মামলার রায় পেয়েছি। রায়ের বিষয়ে এবং যোগদানের বিষয়ে মতামত চেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মতামত পাওয়া গেলে যোগদানের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।’