Sylhet Today 24 PRINT

‘হুজুর পা টিপানোর জন্য রুমে নিয়ে যান, এরপর পেন্ট খুলে হাত দেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০১ অক্টোবর, ২০২৬

‘হুজুর শুক্রবারে পা টিপানোর জন্য আমাদের দুজনকে রুমে নিয়ে যান। আমরা পা টিপে দেই। তখন অন্য ছাত্র চলে যায়। এরপর হুজুর দরজা বন্ধ করে আমাকে মায়া দেন। পেন্ট খুলে হাত দেন।’

এমন অভিযোগ সিলেটের কাজির বাজার মাদ্রাসা নামে পরিচিত জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়ার তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর। মাদ্রাসায় যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ ১২ বছরের এ শিক্ষার্থীর।

এমন অভিযোগে শিশুটির মা নগরের কতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। এরপর মতিউর রহমান নামে কাজির বাজার মাদ্রাসার আরবি বিভাগের এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার বিকেলে আলাপকালে ওই শিশু আরও বলে, বুধবার আবার আমাকে রুমে ডেকে নেন মতিউর হুজুর। পরে আমি মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে চলে আসি।

সে বলে, এমন ঘটনা আরও দুইবার হইছে। ছাত্রদের রুমে ডেকে নিয়ে যান তিনি।

শিশুটি বলে, এ বিষয়ে আমি গার্জিযানদের বিচার দেওয়ার কথা বললে তিনি মারার ভয় দেখান। মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন।

এমন অভিযোগ ওঠায় এরআগে কাজির বাজার মাদ্রাসার আরও দুই শিক্ষককে বহিস্কার করা হয় বলে জানায় সে।

এর আগে শিশুটির মা বাদী হয়ে বুধবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, গত এক মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক মতিউর রহমান শিশুটিকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে বলাৎকারের চেষ্টা করেন। সবশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টার দিকে শিশুটিকে কক্ষে ডেকে নিয়ে পোশাক খুলে বলাৎকারের চেষ্টা করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হলেও ভয় ও হুমকির কারণে শিশুটি বিষয়টি কাউকে জানায়নি। এমনকি ঘটনার পর বারবার মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়িতে চলে আসত। পরে আবারও মাদ্রাসায় পাঠানো হলে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কায় সে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে আসে। একপর্যায়ে মামার কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায় শিশুটি।

পরে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এদিকে শিশুটির দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মাদ্রাসায় তার বয়সী আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীও শিক্ষকদের হাতে যৌন হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।


এ ঘটনায় মাদ্রাসাটির পরিবেশ ও আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুুলেছেন ঘাসিটুলা লামাপাড়ার বাসিন্দা এই শিশুর মা। তিনি বলেন, ‘আমার ভাগ্য ভালো আমি আমার সন্তানকে ফিরে পেয়েছি। সে সুস্থ অবস্থায় ফিরে এসেছে। অন্যদের কি অবস্থা যে কি তা নিয়ে তিনি শংকা প্রকাশ করেন। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি দাবি করেন। তিনি বলেন হুজুর হয়েও যারা এসব কাজ করেন তারা নরপশু।

সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মইনুল জাকির বলেন, শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপার্দ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.