Sylhet Today 24 PRINT

হবিগঞ্জে বাসমালিকরা ধর্মঘট স্থগিত করলেও মানছেন না শ্রমিকেরা, যাত্রী ভোগান্তি চরমে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি |  ০২ অক্টোবর, ২০২৬

হবিগঞ্জে বাসের মালিকেরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দিলেও তা মানছেন না শ্রমিকেরা। যে কারণে শুক্রবারও বাস ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। তবে হবিগঞ্জ-সিলেট চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাস বন্ধ থাকলেও হবিগঞ্জ-ঢাকা রুটে কয়েকটি বাস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।

হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট সড়কে বাস আটকে রাখা এবং মালিক-শ্রমিক বিরোধের জের ধরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয় হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ। ধর্মঘটের কারণে জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ আছে। এর ফলে যাত্রীদের চলাচলে দেখা দিয়েছে দুর্ভোগ।


হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী শুক্রবার সকালে বলেন, ‘বাংলাদেশ বাস মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক শিমুল বিশ্বাসের অনুরোধে আজ থেকে আমরা পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত করি। আগামী রোববার ঢাকায় হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার বাস মালিক সমিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা বসার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সবার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ দেওয়া হবে। কিন্তু ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি শ্রমিকেরা মেনে নিচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে আমরা বসব।’

ধর্মঘটের বিষয়ে গত বুধবার বিকেলেই গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ। একই দিন এ বিষয়ে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেয় সংগঠনটি।

স্মারকলিপি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জের বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাসের মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মৌলভীবাজারের এসএমএস পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে বাস চলাচলে বাধা, যানবাহন ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত ১১ ও ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে মৌলভীবাজারে যাওয়ার পথে হবিগঞ্জের তিনটি বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাস আটকে রাখা হয়। বিষয়টি সমাধানে প্রশাসনের উদ্যোগে একাধিকবার আলোচনা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় হবিগঞ্জ পৌর বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীবাহী বাসগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। শ্রমিকেরা জটলা বেঁধে দাঁড়িয়ে আছেন। বাস ছাড়া না ছাড়া নিয়ে নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছিলেন। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রীরা এসেছেন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য। বাস বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন তাঁরা।

এ সময় কথা হয় পরিবহনশ্রমিক জাহাঙ্গীর মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বাস মালিক সমিতি ধর্মঘট করার আগে বিষয়টি আমাদের শ্রমিকদের অবগত করেনি। টার্মিনাল থেকে বাসগুলো ছেড়ে গেলে বিভিন্ন স্থানে সবার আগে শ্রমিকেরা হামলার শিকার হবেন। এর দায় কে নেবে। আমরা ঝুঁকি নিতে চাই না।’

ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীদের একজন শাহানা আক্তার। অসুস্থ সন্তানের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা করাতে এবং সিলেটের শাহপরাণ এলাকায় থাকা স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে ভোরে ছোট ছোট সন্তানকে নিয়ে বানিয়াচং থেকে হবিগঞ্জ শহরে আসেন তিনি। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে হবিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখেন, কোনো বাসই চলছে না।

শাহানা বলেন, মা হিসেবে ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে ভ্রমণ করাই যথেষ্ট কঠিন। তার ওপর আমার একটি অসুস্থ সন্তান আছে, যার ডাক্তারি পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। আমাকে স্বামীর কাছেও পৌঁছাতে হবে। এতদূর এসে সব বাস চলাচল বন্ধ দেখে আমি পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছি।


সিলেটগামী যাত্রী শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি আগেই ট্রেনের টিকিট কিনেছিলেন। কিন্তু পরিবহন বন্ধ থাকায় শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনে পৌঁছাতে পারেননি।

বাস টার্মিনালে মন খারাপ করে বসে ছিলেন হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার গৌতম দাস (২২) নামের এক শিক্ষার্থী। শুক্রবার সকাল ১০টায় সিলেটে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তাঁর চাকরির পরীক্ষা ছিল। ভোর ছয়টায় হবিগঞ্জ পৌর বাস টার্মিনালে এসে দেখেন কোনো বাস ছাড়ছে না। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সিলেট যেতে পারেননি। দুঃখ প্রকাশ করে গৌতম বলেন, ‘আমি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারলাম না।’।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.