বড়লেখা প্রতিনিধি | ০৩ অক্টোবর, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত।
ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতার মেলবন্ধনে বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্মোচিত হলো বিদ্যালয়ের প্রথম বার্ষিক ম্যাগাজিন ‘সতীর্থের জলছবি’। শিক্ষার্থীদের ভাবনা, স্বপ্ন, সৃজনশীলতা ও স্মৃতির রঙে সাজানো এ ম্যাগাজিন যেন বিদ্যালয়ের দীর্ঘ পথচলার এক টুকরো জলছবি।
বুধবার বিকেলে বিদ্যালয়ের হলরুমে উৎসবমুখর পরিবেশে ম্যাগাজিনটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ‘সতীর্থের জলছবি’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম মাহবুব।
বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৬৮ বছর পর প্রকাশিত এই প্রথম ম্যাগাজিনকে ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অতিথিদের মধ্যে ছিল আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। বিদ্যালয়ের দীর্ঘ ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সৃজনশীলতার এই সংযোগ অনুষ্ঠানে সৃষ্টি করে এক আবেগঘন পরিবেশ।
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ও ম্যাগাজিনের সম্পাদক মো. জুনেদ রায়হান রিপনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মরিয়ম জামিলা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ইউএনও মাহবুব আলম মাহবুব। মুখ্য আলোচকের বক্তব্য দেন কথাসাহিত্যিক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আকমল হোসেন নিপু। স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ময়নুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস সবুর, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাওলাদার আজিজুল ইসলাম, জুড়ী টিএন খানম একাডেমি ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অরুণ চন্দ্র দাস, ফুলতলা-সাগরনাল শাহনিমাত্রা কলেজের অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খছরু, ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রব, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি বিধান দে এবং মুড়াউল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রশীদ আহমদ খান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যবইয়ের বাইরের জ্ঞানচর্চা, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার বিকাশে স্কুল ম্যাগাজিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ‘সতীর্থের জলছবি’ শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের স্মৃতি, ঐতিহ্য ও বর্তমান প্রজন্মের চিন্তাভাবনাকে এক মলাটে ধরে রাখবে।
মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে তাই শুধু একটি ম্যাগাজিনের যাত্রাই শুরু হলো না; বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬৮ বছরের পথচলায় যুক্ত হলো নতুন এক সৃজনশীল অধ্যায়—‘সতীর্থের জলছবি’, যেখানে সময়ের আয়নায় ধরা থাকবে সতীর্থদের স্বপ্ন, শব্দ ও স্মৃতির রঙিন প্রতিচ্ছবি।