Sylhet Today 24 PRINT

মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৯ অক্টোবর, ২০২৬

সিলেট নগরের আখায়িলা এলাকার মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ওই নবজাতক মারা যায়। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্ববজনরা।

স্বজনদের দাবি, সময়মতো প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন না করে জোরপূর্বক স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) চেষ্টা চালানোর কারণেই নবজাতকটির মৃত্যু হয়েছে।

জানা যায়, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের অন্তঃসত্ত্বা নবজাতকের নাজমা বেগমকে দুদিন আগে ডেলিভারির জন্য মাউন্ড এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা। নামজা বেগমের স্বামী ইদ্রিস আলী সুমন সৌদি প্রবাসী।

নবজাতকের স্বজনদের অভিযোগ, আল্ট্রাসোনোগ্রাম রিপোর্ট অনুযায়ী বাচ্চার ওজন সাড়ে তিন থেকে চার কেজি হওয়ায় তারা শুরু থেকেই চিকিৎসকদের সিজারিয়ান ডেলিভারির অনুরোধ জানিয়েছিলেন। স্বজনদের বারবার তাগিদ সত্ত্বেও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা জানান, মা ও শিশু উভয়েই সুস্থ আছেন এবং স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব। কিন্তু সময় গড়িয়ে গেলেও কোনো সঠিক ব্যবস্থা না নিয়ে কালক্ষেপণ করা হয়।

নবজাতকের দাদা দোয়ারাবাজারের টেংরা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. জোবায়ের হোসাইন মজুমদার অভিযোগ করে বলেন, প্রসূতির গর্ভ থেকে নবজাতকের মাথা বের হলেও শরীরের বাকি অংশ (কাধ) আটকে যায়। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের অপরিকল্পিত টানাটানির কারণে নবজাতকটির গলায়, পিঠে ও মাথায় মারাত্মক জখম হয় এবং শ্বাসরুদ্ধ হয়ে শিশুটি মারা যায়। পরবর্তীতে জটিলতা তীব্র আকার ধারণ করলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে খবর দেওয়া হয়, কিন্তু ততক্ষণে নবজাতক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

শিশুর মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আচরণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা। তাঁদের অভিযোগ, নবজাতকের মৃত্যুর পর কারণ জানতে চাইলে চিকিৎসকরা দুর্ব্যবহার করেন এবং নিরাপত্তার অজুহাতে ধাক্কা দিয়ে স্বজনদের হাসপাতাল কক্ষ থেকে বের করে দেন।

এ ঘটনায় নিহত নবজাতকের পরিবার সুচিকিৎসার চরম অবহেলা ও অনভিজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসাকাজ চালানোর দায়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তবে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপক শফিক আহমদ বলেন, বাচ্চাটি পৃথিবীতে আসার আগেই মারা গিয়েছে। নবজাতকের ঘাড় ভিতরে ছিল, তাই টেনে বের করার সময় বাচ্চার মাথার পিছনে, গলার নিচে ও উরুতে আঘাত লাগে।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ থাকলে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে পারেন। তারা চাইলে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.