নিজস্ব প্রতিবেদক | ১১ অক্টোবর, ২০২৬
সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় সাদমান রহমান নামে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।
শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই একটি গতিরোধকের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার মোটরসাইকেল সড়ক বিভাজকে ধাক্কা খায়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন তপোবন আবাসিক এলাকার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সাদমান রহমান শাবিপ্রবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি রাজবাড়ীর মধ্য ভবানীপুর এলাকায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের টিলারগাঁও এলাকার একটি মেসে থাকতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা শেষে মোটরসাইকেলে করে মদিনা মার্কেট এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন সাদমান। পথে একটি গতিরোধকের কাছে পৌঁছালে মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন তিনি। এরপর মোটরসাইকেলটি সড়ক বিভাজকে ধাক্কা খায়। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
দুর্ঘটনার পর সেখানে থাকা লোকজন সাদমানের সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনে খবর দেন। তারা ঘটনাস্থলে এসে তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, গতিরোধকের কাছে মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি সড়ক বিভাজকে ধাক্কা খায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন নিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করা হবে।
সাদমানের আকস্মিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান বলেন, সাদমানের মৃত্যুতে শাবিপ্রবি পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। তার অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন সাপেক্ষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষার্থী মরদেহবাহী গাড়ির সঙ্গে রাজবাড়ীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।