Sylhet Today 24 PRINT

কুড়িয়ে পাওয়া মেয়েটি পেল নতুন সংসার

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি |  ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

সুনামগঞ্জের শিশু পরিবার অঙ্গনে শারমিন আক্তার-মুজাহিদুল ইসলাম দম্পতি। ছবি সংগৃহীত

এক সময় হারিয়ে গিয়েছিল পথ। জানা ছিল না ঠিকানা, পাশে ছিল না কোনো আপনজন। চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে চড়ে ছোট শিশু শারমীন একা চলে এসেছিল সুনামগঞ্জের ছাতকে। সেখান থেকেই শুরু হয় এক নতুন আশ্রয়ের খোঁজ। এরপর সরকারি শিশু পরিবারে ঠাঁই হওয়া এবং দেখতে দেখতে কেটে যায় জীবনের দীর্ঘ ১২ বছর।

রোমাঞ্চকর সেই যাত্রা শেষে এবার শারমীন নতুন জীবনের অধ্যয় শুরু করলেন তাঁর নতুন সংসারে। এত দিন যে প্রতিষ্ঠান ছিল একমাত্র আশ্রয়, সেই আঙিনা থেকেই নতুন জীবনের পথে যাত্রা শুরু হলো তাঁর। ধুমধাম করে অনুষ্ঠিত হলো তাঁর বিয়ে। আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠল সুনামগঞ্জ সরকারি শিশু পরিবার। আয়োজনে অতিথি হয়ে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ এলাকার বিশিষ্টজনরা। সবার দোয়া ও আশীর্বাদে নতুন জীবনে পা রাখলেন নবদম্পতি।

শারমিনের জন্ম ২০০৭ সালের ১৫ মার্চ। তাঁর বাবা জাকির মিয়া ও মা হাছিনা বেগম। প্রায় ১২ বছর আগে, ২০১৪ সালে ছাতক থানায় করা একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্রে তাঁর মা-বাবার নাম জানা যায়। ততক্ষণে পথ হারিয়ে ছাতকে এসে পৌঁছায় ছোট শারমিন।

ছাতক থানা-পুলিশ ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় প্রথমে তাঁর স্থান হয় সিলেটের একটি সেফ হোমে। পরে সমাজসেবা কর্তৃপক্ষ তাঁকে শিশু পরিবারে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সুনামগঞ্জ সরকারি শিশু পরিবারে আসন খালি না থাকায় ২০১৫ সালের ১৬ মার্চ শ্রীমঙ্গল শিশু পরিবারে আশ্রয় দেওয়া হয় তাঁকে। সেখানে দুই বছর কাটানোর পর আসন খালি হলে শারমিনকে নিয়ে আসা হয় সুনামগঞ্জে। বর্তমানে তিনি স্থানীয় আব্দুল আহাদ ও শাহিদা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। শিশু পরিবারের স্নেহ-ছায়াতেই বেড়ে উঠেছে তাঁর শৈশব ও কৈশোর।

১৯ বছর বয়সী শারমিন এবার নিজের পছন্দেই বেছে নিয়েছেন জীবনসঙ্গী। সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার পশ্চিম নিয়ামতপুর গ্রামের ইয়াকুব আলী ও নাছিমা আক্তারের ২১ বছর বয়সী ছেলে মুজাহিদুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর পরিচয় থেকে গড়ে ওঠা সম্পর্কের চূড়ান্ত পরিণতি এই বিয়ের মাধ্যমে।

বর মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, শারমিনের মা-বাবা নেই, এ জন্য তাঁর প্রতি করুণা নেই। তবে জীবনে যে ভালোবাসা আর আন্তরিকতা থেকে সে বঞ্চিত হয়েছে তার কিছুটা দিতে চান তিনি। মুজাহিদুলের এমন মানসিকতাকে প্রজন্মের তরুণদের জন্য শিক্ষণীয় বলে মন্তব্য করেছেন অতিথিরা।

সোমবার বিদায়ের আগে শারমিন বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানই আমার বাপের ভিটা, এই মানুষগুলোই আমার পরিবার। আমরা যেন সুখে-শান্তিতে সংসার করতে পারি, সে জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।’

নবদম্পতিকে শুভকামনা জানাতে এসে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, এ আয়োজনের সাক্ষী হতে পেরে তিনি আনন্দিত। শারমিন ও মুজাহিদ যেন সুখ, শান্তি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ [email protected] ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.