নিজস্ব প্রতিবেদক | ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
এবছর উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষার (এইচএসসি) সিলেট শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। এবার সিলেটে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২০৪ জন।
শনিবার সকালে সিলেট শিক্ষাবোর্ডে সংবাদ সম্মেলেনর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিলকিস বেগম।
গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে সিলেট বোর্ডে এইচএসসিতে পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। গতবছর জিপিএ-৫ পান ১ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী। সে হিসেবে এবার জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও কমেছে।
বোর্ডের তথ্যমতে, এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৭১ হাজার ৮৯৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ১৭২ জন।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন জানান, পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় সামগ্রিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষা চলাকালে আবহাওয়া ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিও ফলাফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।
তিনি আরও জানান, এবার সিলেট বিভাগের ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী পাস করেছে। অন্যদিকে তিনটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে হবিগঞ্জের একটি এবং সুনামগঞ্জের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
শিক্ষার মান ও বোর্ডের সার্বিক ফলাফল উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পাসের হার ছিলো ৮৫ দশমিক ৩৯ ভাগ, ২০২৩ সালে ৭১ দশমিক ৬২ ভাগ, ২০২২ সালে ৮১ দশমিক ৪০ ভাগ, ২০২১ সালে ৯৪ দশমিক ৮০ ভাগ, আর ২০২০ সালে শতভাগ, ২০১৯ সালে ৬৭ দশমিক ০৫, ২০১৮ সালে ৭৩ দশমিক ৭, ২০১৭ সালে ৭২ ভাগ, ২০১৬ সালে ৬৮ দশমিক ৫৯ ভাগ, ২০১৫ সালে ৭৪ দশমিক ৫৭ এবং ২০১৪ সালে ৭৯ দশমিক ১৬।
বোর্ড সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২০ সালে করোনাকালীন সময়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সবাইকে পাস করিয়ে দেওয়া হয়। সেই বার ফলাফল প্রস্তুতিতে বিগত বছরের এসএসসির ফল বিবেচনা নেওয়া হয়। আর ২০২১ সালে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার কিছু নম্বর যোগ করে চূড়ান্ত ফলাফল তৈরি করা হয়েছিল, যার ফলে পাসের হার স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ছিল।