নিজস্ব প্রতিবেদক | ০২ নভেম্বর, ২০২৬
সিলেটের বালাগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়ায় চাচাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলার মূল আসামিসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এসআরবি-৯ (সিলেট) ও এসআরবি-৭ (চট্টগ্রাম)-এর যৌথ দল চট্টগ্রামের বন্দর থানাধীন ব্রিকফিল্ড রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব মুসলিমাবাদ এলাকার মৃত মির্জা ফরিদের ছেলে মির্জা টিটু (৩৫), টিটুর স্ত্রী সালমা বেগম (২৫) ও বোন মির্জা জেনি (৩৮)।
গ্রেপ্তারের সময় টিটু ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে ছিল তাদের শিশু সন্তান। মা-বাবা দুজনই হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়ায় শিশুটির পরবর্তী দায়িত্ব কে নেবেন আদালত তা নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছেন এসআরবি কর্মকর্তা।
এসআরবি জানায়, গত ২৫ অক্টোবর সিলেটের বালাগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়ায় খুন হন মির্জা আব্দুল লতিফ আবুল (৬৫)। ওইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভুক্তভোগী লতিফ ও তার পরিবারের সদস্যরা পাওনা টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লতিফকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে বালাগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে এসআরবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে এসআরবি-৯ (সিলেট) ও এসআরবি-৭ (চট্টগ্রাম)-এর যৌথ দল চট্টগ্রামের বন্দর থানাধীন ব্রিকফিল্ড রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
এসআরবি-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, এসআরবি-৭ ও এসআরবি-৯-এর যৌথ অভিযানে হত্যা মামলার আসামি হিসেবে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় টিটু দম্পতির সঙ্গে তাদের শিশু সন্তানও ছিল। শিশুটির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত নেবেন।
বালাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ তদফদার জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর এসআরবি-৭-এর সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরে দুই ব্যাটালিয়নের যৌথ অভিযানে চট্টগ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। আসামিদের সিলেটে নিয়ে আসতে বালাগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। সিলেটে আনার পর তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
শিশুটির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে শিশুটি সঙ্গে থাকলে তাকে দেখভালের জন্য পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের কাছে দেয়া হবে কি না এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন।