Sylhet Today 24 PRINT

সিলেটে কদম গাছের চূড়ায় দুই দিন আটকে ছিল বিড়ালছানা, ফায়ার সার্ভিসের অভিযানে উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৪ নভেম্বর, ২০২৬

বিশাল এক কদম গাছের মগডালে টানা দুই দিন ধরে আটকে ছিল ছোট্ট একটি বিড়ালছানা। এই প্রাণিকে বাঁচাতে সমন্বিত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা। এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে প্রাণভয়ে কাঁপতে থাকা ফুটফুটে বিড়ালছানাটিকে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সিলেট সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়াইটুলা এলাকার ৬৪/১ নম্বর বাসায় সামনের ঘটনাটি ঘটে। বাড়িটি সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জাহানারা খানম মিলনের।

জানা যায়, প্রায় দুই দিন আগে সবার অজান্তে বাড়ির পাশের বিশাল উঁচু কদম গাছে উঠে পড়ে একটি সাদা-ধূসর রঙের বিড়ালছানা। ওঠার সময় অনায়াসে উঠে গেলেও গাছের একেবারে চূড়ায় পৌঁছানোর পর নিচে নামার পথ আর খুঁজে পায়নি সে। চারপাশে সবুজ পাতার গভীর আড়াল আর মাটির বহু ওপরে শূন্যের মাঝে আটকে পড়ে ছোট্ট প্রাণীটি। প্রথমদিকে বিষয়টি কারও নজরে আসেনি। কিন্তু টানা দুই দিন ধরে অভুক্ত ও তৃষ্ণার্ত অবস্থায় তীব্র আতঙ্কে গাছ থেকে একটানা ডেকে যাচ্ছিল ছানাটি। দিনভর আশপাশের লোকজন তার করুণ আর্তনাদ শুনে গাছের নিচে জড়ো হতে থাকে।

স্থানীয়রা জানান, কদম গাছটি অত্যন্ত দীর্ঘ ও শাখা-প্রশাখা ভঙ্গুর হওয়ায় সাধারণ কারও পক্ষেই অত উঁচুতে উঠে বিড়ালটিকে নামিয়ে আনা সম্ভব ছিল না। সময় যত গড়াচ্ছিল, ক্ষুধার্ত ছানাটির মগডাল থেকে নিচে পড়ে গিয়ে প্রাণ হারানোর শঙ্কা তত তীব্র হচ্ছিল।

বিড়াল ছানা উদ্ধার প্রসঙ্গে চ্যানেল আইয়ের সিলেট প্রতিনিধি সাদিকুর রহমান সাকী বলেন, গাছটি খুব বেশি উচু হওয়ায় সিলেট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন তিনি। একটি অবলা জীবের জীবন রক্ষার্থে সহযোগিতার অনুরোধ করেন। সেই আহবানে সাড়া দিয়ে দ্রুত উদ্ধারকারী দল পাঠায় ফায়ার সার্ভিস।

তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার প্রীতিশ কুমার দাসের নেতৃত্বে ফায়ার ফাইটারদের একটি বিশেষ রেসকিউ টিম প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম নিয়ে দ্রুত গোয়াইটুলার ওই বাসায় এসে পৌঁছায়।

তিনি জানান, অভিযানের শুরুতেই দেখা দেয় বড় চ্যালেঞ্জ। গাছটি শুধু উঁচুই ছিল না, আশপাশে ছিল টিনের চাল এবং বৈদ্যুতিক তারের জটলা। ঘন পাতার আড়ালে বিড়ালছানাটি এমন এক সরু ডালে বসে কাঁপছিল, যেখানে সরাসরি কারও হাত পৌঁছানো কঠিন ছিল। ফায়ার সার্ভিসের বহনযোগ্য বিশেষ অ্যালুমিনিয়াম এক্সটেনশন মই একে একে জোড়া দিয়ে গাছের মগডাল বরাবর স্থাপন করা হয়। নিচে মইটি শক্ত করে ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ও স্থানীয় যুবকেরা। প্রায় এক ঘণ্টার সতর্কতা ও কৌশলপূর্ণ প্রচেষ্টার পর বিড়ালছানাটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।


সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জাহানারা খানম মিলন বলেন, গত দুই দিন ধরে বিড়ালছানাটির কান্না শুনে আমাদের মন ভীষণ খারাপ ছিল। আমরা নিচে দাঁড়িয়ে শুধু ছটফট করছিলাম, কিন্তু এত উঁচু গাছে উঠে তাকে বাঁচানোর কোনো উপায় পাচ্ছিলাম না। অবলা জীব, মুখে তো কিছু বলতে পারে না। তখন সাংবাদিক সাকী ফায়ার সার্ভিসের সাথে যোগাযোগ করেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা খবর পেয়ে যেভাবে দ্রুত ছুটে এসেছেন এবং চরম ধৈর্য নিয়ে ছানাটিকে অক্ষত উদ্ধার করেছেন, তাতে আমি অভিভূত। তারা প্রমাণ করলেন মানুষের পাশাপাশি যেকোনো ছোট জীবের জীবনের মূল্যও অনেক বড়। ফায়ার সার্ভিসের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া সিলেট ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দলের লিডার প্রীতিশ কুমার দাস বলেন, "ফায়ার সার্ভিসের মূল মন্ত্রই হলো মানুষের জানমাল ও জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তবে সৃষ্টির যেকোনো জীব বিপদে পড়লে তাকে রক্ষা করা আমাদের পরম নৈতিক দায়িত্ব। বিড়ালছানাটি অত্যন্ত উঁচুতে ঝুঁকিপূর্ণ এক সরু ডালে ছিল। একটু ভুল হলেই হয়তো তাকে আর জীবিত পাওয়া যেত না। আমাদের দল দীর্ঘ প্রচেষ্টায় অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অভিযান সম্পন্ন করতে পেরেছে। ছানাটিকে অক্ষতভাবে নামিয়ে এনে সবার মুখে যখন অমলিন হাসি দেখেছি, তখন আমাদের সকল ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে। প্রতিটি জীবনেরই সমান গুরুত্ব আছে, এই বার্তাটি আমরা সমাজে ছড়িয়ে দিতে চাই।"

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ [email protected] ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.