ওসমানীনগর প্রতিনিধি | ০৮ নভেম্বর, ২০২৬
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজারে এক দিনেই পৃথক তিনটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ লাখ ১৮ হাজার ১৫০ টাকা মূল্যের মালামাল, একটি প্রাইভেট কার ও একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। এসব ঘটনায় মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৫০ টাকা।
শনিবার ৭ নভেম্বর উপজেলার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা গোয়ালাবাজারে এসব চুরির ঘটনা ঘটে। একই দিনে দোকান, মসজিদ এলাকা ও রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে মূল্যবান মালামাল ও যানবাহন চুরির ঘটনায় এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, শনিবার ভোরে উত্তর গোয়ালাবাজারের ব্যবসায়ী ঝিনুক কুমার পালের দোকানের শাটারের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় দোকানে থাকা বিভিন্ন ধরনের মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় তারা। চোরেরা দোকানের সিসি ক্যামেরার সংযোগ তারও কেটে দেয়। পরে ডিভিআর মেশিনে সংরক্ষিত ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির ছবি পাওয়া যায়। চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে আরএফএল মোটর, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্টপ কক, মুভিং পিলার কক, টুইন বিব কক, অ্যাঙ্গেল স্টপ কক ও বেসিন মিক্সার। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ ১৮ হাজার ১৫০ টাকা। দোকানমালিকের ধারণা, চুরি হওয়া মালামাল একটি মিনি পিকআপে করে শেরপুরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দোকানের বিপরীত পাশে অবস্থিত ইসমাইল ইলেকট্রিকের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ৬ নভেম্বর রাত ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে ৭ নভেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত একটি মিনি পিকআপকে সন্দেহজনকভাবে পার্কিং অবস্থায় দেখা গেছে।
ব্যবসায়ী ঝিনুক কুমার পাল বলেন, দোকানের শাটারের তালা কেটে চোরেরা ভেতরে প্রবেশ করে প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। এমনকি দোকানের সিসি ক্যামেরার সংযোগ তারও কেটে দিয়েছে। পাশের প্রতিষ্ঠানের ক্যামেরায় একটি মিনি পিকআপের সন্দেহজনক অবস্থান দেখা গেছে। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার ও জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গোয়ালাবাজার উত্তর জামে মসজিদ এলাকা থেকে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুহাম্মদ আজাদ আলীর ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। Honda Livo মডেলের মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর সিলেট মেট্রো-হ-১১-৭৯৪৩। এর আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
মুহাম্মদ আজাদ আলী জানান, প্রতিদিনের মতো মোটরসাইকেলটি মসজিদের পাশে রেখে নামাজ ও মসজিদের কাজে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। পরে বাইরে এসে দেখেন, মোটরসাইকেলটি নেই। আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও সেটির সন্ধান পাননি। মোটরসাইকেলটি দ্রুত উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অন্যদিকে, একই দিন রাত ৯টার দিকে গোয়ালাবাজারের আড্ডাখানা নামের একটি রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে সাদা রঙের একটি টয়োটা প্রাইভেট কার চুরি হয়। উপজেলার পূর্ব সিরাজনগর গ্রামের সুফি মিয়ার ছেলে মো. সিজান আহমদ (২৬) রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে যাওয়ার সময় গাড়িটি সামনে রেখে যান। রাত ১০টার দিকে খাবার শেষে বাইরে এসে দেখেন, গাড়িটি আর সেখানে নেই।
চুরি হওয়া গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ-১১-১৩৪৩। ১৯৯১ মডেলের ১৫০০ সিসির গাড়িটি তিনি সম্প্রতি ৩ লাখ ৫ হাজার টাকায় কিনেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
সিজান আহমদ বলেন, রাত ৯টার দিকে রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে গিয়ে গাড়িটি সামনে রেখে যান। এক ঘণ্টা পর খাবার শেষে বাইরে এসে দেখেন গাড়িটি নেই। আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও গাড়িটির সন্ধান পাননি। কষ্ট করে কেনা গাড়িটি হারিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। দ্রুত গাড়িটি উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এদিকে, একই দিনে গোয়ালাবাজারের মতো জনবহুল বাণিজ্যিক এলাকায় পরপর তিনটি চুরির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তালা কেটে চুরি, মসজিদ এলাকা থেকে মোটরসাইকেল এবং রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে প্রাইভেট কার চুরির ঘটনায় এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়রা বাজার এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার ও নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।
চুরির ঘটনাগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে ওসমানীনগর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।