বড়লেখা প্রতিনিধি | ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬
বড়লেখার ১০ ইউনিয়নের মধ্যে উপজেলা আ’লীগ ৯ ইউনিয়নে দলীয় একক চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠালেও তৃণমূলের ভোটে সমান সংখ্যক ভোট হওয়ায় দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান চেয়ারম্যান নাহিদ আহমদ ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শাহাব উদ্দিনের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তবে কেন্দ্রে পাঠানো এই দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর একজনের দলীয় পদবি গোপন রাখার অভিযোগ উঠেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারী কেন্দ্র সিদ্ধান্ত দেবে কে হবেন আ’লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী। শেষ পর্যন্ত এ ইউনিয়নে কে হচ্ছেন নৌকার কান্ডারী এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা।
জানা গেছে, ইউপি নির্বাচন উপলক্ষে আ’লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ের কাউন্সিলে দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের মনোনয়ন প্রত্যাশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন ও বর্তমান চেয়ারম্যান নাহিদ আহমদ সমান সংখ্যক (৩৮টি) ভোট পান। পরবর্তীতে এই দুই প্রার্থীকে নিয়ে উপজেলা আ’লীগ ও জেলা আ’লীগ ঐক্যমত্যে পৌঁছতে না পারায় তাদের দুইজনের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়। মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহাব উদ্দিন ও তার কর্মী সর্মথকদের অভিযোগ তিনি বর্তমান ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক অথচ কেন্দ্রে পাঠানো চিঠিতে তার দলীয় পদবি গোপন রাখা হয়।
তিনি আ’লীগকে দীর্ঘদিন থেকে সুসংগঠিত করে যাচ্ছেন। ১৯৯৭ সাল থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক থেকে অদ্যাবধি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। অপরদিকে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান নাহিদ আহমদ আ’লীগের মনোনয়ন চাইলেও তিনি আ’লীগের কোন স্থরের সদস্য পদে নেই। কিভাবে তৃণমুলের কাউন্সিলে তিনি অংশগ্রহন করলেন দলিয় কর্মী সমর্থকরা প্রশ্ন তুলেছেন। দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক আশিক উদ্দিন ও তথ্য গবেষণা সম্পাদক ডা: আইনুল ইসলাম কাউন্সিলে মনোনায়ন প্রত্যাশী ছিলেন। পরবর্তীতে তারা শাহাব উদ্দিনকে সমর্থন করে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন।
সহ-সাধারণ সম্পাদক আশিক উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন থেকে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন শাহাব উদ্দিন। সংগঠনের নিবেদিত প্রাণ ও ত্যাগী এ নেতা যদি নির্বাচনে দলীয় মনোনায়ন না পান তাহলে তার প্রতি অবিচার করা হবে।
ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্পাদক ও চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহাব উদ্দিন বলেন, তিনি সংগঠনের একজন কর্মী থেকে শুরু করে বর্তমানে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। কাউন্সিলে তার এক ভোটারকে ভোট দিতে দেয়া হয়নি। অত্যন্ত দু:খের বিষয় কেন্দ্রে পাঠানো তালিকায় তার দলীয় পদবি পর্যন্ত গোপন রাখা হয়।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার উদ্দিন শাহাব উদ্দিনের দলীয় পদবী গোপন রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্বাক্ষরসহ উনার পদবি সম্বলিত তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান নাহিদ আহমদ আওয়ামীলীগের কোন সদস্য নন এমন অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, নাহিদ আওয়ামী পরিবারের সন্তান। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। আওয়ামীলীগের প্রার্থী হতে দলের পদবি থাকতে হবে এমন কোন কথা নেই।