নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬
অভিজিৎ রায়কে হত্যা করে বিজ্ঞান ও মুক্তবুদ্ধির চর্চায় আঘাত আনতে চেয়েছিলো উগ্রবাদীরা। কিন্তু হত্যা করে কখনোই মুক্তবুদ্ধির চর্চা দমানো যাবে না। বরং অভিজিৎ রায় দেশের বিজ্ঞানমনস্ক তরুণ প্রজন্মের কাছে হয়ে ওঠেছেন প্রেরণার নাম।
শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণজাগরণ মঞ্চ, সিলেটের ‘অভিজিৎ স্মরণ’ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অভিজিৎ রায়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ আয়োজন। আলোচনা পর্ব শেষে অভিজিৎ রায়ের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন ও আলোক প্রজ্বলন করা হয়।
২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি একুশে বইমেলার পাশে বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যা কওে ধর্মীয় উগ্রবাদীরা। শুক্রবার তার হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্ণ হয়।
আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, একবছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অভিজিতের খুনিরা ধরা না পরায়ই দেশে ধারাবাহিকভাবে লেখক, ব্লগার, প্রকাশক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। ভিন্ন ধর্মের, এমনকি নিজ ধর্মের ভিন্নমতাবলম্বীদেরও হত্যা করা হচ্ছে। একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে চলছে। এই উগ্রবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরকারে নমনীয় অবস্থানের সমালোচনা করেন বক্তারা।
বক্তারা বলেন, অভিজিৎ রায় মানুষের মতের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতেন। একটি বিজ্ঞানমনস্ক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন। তাই নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে ও মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।
বক্তারা অভিজিৎ রায়সহ সকল লেখক ব্লগার ও প্রকাশক হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে জঙ্গিবাদ নির্মূলের আহ্বান জানান।