আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ | ২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ জলমহালে মেশিন দিয়ে তলা শুকিয়ে মাছ ধরার অভিযোগ উঠেছে এক শ্রেষীর অসাধু ইজারাদাররা ও সাব ইজারাদারের বিরুদ্ধে। ইজারাদারা এলাকার প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক দলের নেতা হওয়ায় স্থানীয় মৎস্য অধিদপ্তর দেখেও না দেখার ভান করছেন।
ইজারাদারদের দাবি, আমরা পানি কমিয়ে মাছ ধরার জন্য বিল সেচা হচ্ছে। আর কৃষকরা দাবী করছেন, পানি না থাকায় ফসলি জমিতে সেচের পানি দেওয়া বন্ধ রয়েছে।
অবশ্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন, এই ধরনের কাজ হলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহন করব, প্রায়োজনে বন্দোবস্ত বাতিলের ব্যবস্থা করব।
সোমবার দুপুরে জমিতে সেচের পানি না থাকায় ফেনারবাক ইউনিয়নের উজান ও ভাটী দৌলতপুরের ৫০ জন কৃষক পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
দৌলত পুরের সেন্টু সরকার, সঞ্জয় সরকার, প্রনয় পুরকায়স্থ, অনুকুল সরকার, সুমন পুরকায়স্থ, রাজীব পুরকায়স্থ, কপিল চন্দ্র রায়, প্রবীর চৌধুরী সহ অন্যান্য কৃষকদের স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, বালুচড়া ও গুল বিলের পানিই আমাদের জমিতে সেচের একমাত্র ভরসা। কিন্তু এই বিলের ইজারা ও সাব ইজারাদারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিলের পানি শুকাচ্ছে। বিলে পানি না থাকলে আমাদের জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হবে না, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হবে।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, বিগত ২ বছর যাবত খড়া, শিলা বৃষ্টি ও আগাম বন্যায় ফসল নষ্ট হয়ে গেছে, আমরা গ্রাম বাসীগন ১৫ দিন পর বিল সেচ করতে বলিলে,তাহারা আমাদের বাধা অগ্রাহ্য করে বিল সেচ করেই চলেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কয়েক গ্রামের মানুষের ফসলের ক্ষতি সাধন হবে।
বালুচড়া ও গুল বিলের সাব ইজারাদার আরাফাত উল্লাহ,ধনা মিয়া একাধিক বার রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে সংযোগ কেটে দেন।
রাজাবাজ বিল ব্যবহারকারী সংগঠনের সভাপতি কালা পুরকায়স্থ জানান, আমরা হিলিপ থেকে ১০ বছরের জন্য জলমহাল বন্দোবস্ত নিয়েছি,আমাদের সাথে ধনা ও আরাফাত উল্লাহও অংশীদার। বিলের মাছ ধরার জন্য একটি মেশিণ লাগিয়েছি।
হিলিপের এসও ফিস মিজানুর রহমান জানান, আমরা প্রথম থেকেই জলমহালের দায়িত্বরতদেরকে জানিয়ে দিয়েছি,পানি শুকানো যাবে না, পানি শুকালো সংশ্লিস্ট জলমহালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, জলমহাল শুকানোর কোন নিয়ম নেই, এরকম হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা জানান, কৃষকরা জমিতে পানি না পেলে ফসলের ক্ষতি হবে, আমি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে সরেজমিনে পাঠিয়ে এই বিষয়টির দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করছি।