Sylhet Today 24 PRINT

জামালগঞ্জে ৫ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না গ্রাম পুলিশের সদস্যারা

আকবর হোসেন,জামালগঞ্জ থেকে |  ০১ মার্চ, ২০১৬

জামালগঞ্জে মানবেতর জীবন যাপন করছেন গ্রাম পুলিশ ও দফাদাররা। অসহায় ৩৬ জন গ্রাম পুলিশরা দীর্ঘ ৫ মাস ধরে বেতন ভাতা পাচ্ছেন না। ইউপি সচিবরা বলছেন তাদের দায় নেয়,চেয়ারম্যানরা বলছেন সচিবরা বিষয়টি ঢিল করেন, নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস বলছেন সচিবদের বিলম্ব আছে বিল তৈরী করে দিতে। আর এদিকে অসহায় গ্রাম পুলিশরা পড়েছেন বিপাকে।

অবশ্য আশার বাণী শুনিয়েছেন নির্বাহী কর্মকর্তা। অধিকাংশ গ্রাম পুলিশরা বলেছেন তারা বেতন না পাওয়ায় সংসার পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন যাপন করছেন,অথচ ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় তারা বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের অধিকার থেকে। অবশ্য উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৪ জন সচিবই গ্রাম পুলিশদের মানবেতর জীবন যাপনের কথা স্বীকার করলেও তাদেরই অন্য আরেক সচিব তিনি বিষয়টি সমন্ধে অবগত নয় বলে জানিয়েছেন। আর উপজেলা নির্বাহী কমকর্তার অফিসের সহকারী জানিয়েছেন বরাদ্দ নেই,তাছাড়া ইউনিয়ন অফিস থেকে আমরা তাদের বেতন বিলও পাইনি।

রোদে আর বৃষ্টিতে ভিজে স্থানীয় সরকারের ভীতকে মজবুত আর শক্তিশালী করনে অগ্রনী ভুমিকা পালন করছেন গ্রাম পুলিশরা। উপজেলা প্রশাসন,পুলিশ প্রশাসন সহ উপজেলার বিভিন্ন দফতরের কাজ বাস্তবায়ন করতে তাদেরকে ছোটাছুঠি করতে হয়। গ্রাম পুলিশের অনেকেই বয়স্ক হওয়ায় গ্রাম পুলিশের কর্তব্যবের পরে আর অন্য কোন উপায়ে সংসারের ভরনপোষনের কাজ করতে পারেননা।

উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গ্রাম পুলিশের বেতনের অর্ধেক পায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ আর বাকী অর্ধেক পায় সরকারী ভাবে। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৩৬ জন গ্রাম পুলিশ ও দফাদার রয়েছে। জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নে ৫জন পুরুষ ও ৩ জন নারী রয়েছে, বেহেলী ৫ জন গ্রাম পুলিশ ও ১ জন দফাদার,ফেনারবাক ইউনিয়নে ৭জন মহিলা আর ১ জন পুরুষ,ভীমখালীতে ৯জন গ্রাম পুলিশ আর ১ জন দফাদার,সাচনা বাজার ইউনিয়নে ৫ জন গ্রাম পুলিশ ও ১ জন দফাদার রয়েছে।

ফেনারবাকের গ্রাম পুলিশ ফরিদ মিয়া জানান,আমরা ৫ মাস ধরে বেতন পাচ্ছিনা,আমার পরিবারে ৫ ছেলেমেয়ে ও স্ত্রী সহ সংসারের ভরনপোষন করতে পারছিনা,ধারদেনা করে চলছি ধীর্ঘদিন ধরে। একই ভাবে বেহেলীর গ্রাম পুলিশ শাসসুনূর জানান,অসুস্থ্য শরীর নিয়ে প্রতিদিন বেতনের খোজে উপজেলা সদরে আসি,চিকিৎসার টাকাও হাতে নেয়,এমনকি আসা যাওয়ার ভাড়াও নেয় আমার। তাই পায়ে হেটে জামালগঞ্জ সদরে আসি।

ফেনারবাকের গ্রাম পুলিশ ইসলাম উদ্দিন জানান,আমার ভাড়ার টাকা নেয়,হাওলাত করে এসেছি,সংসার নিয়ে চলতে খুব কষ্ট হচ্ছে আমার।

সাচনা বাজার ইউনিয়নের সচিব প্রদীপ কুমার রায় জানান,গ্রাম পুলিশদের বরাদ্ধ আসতে বিলম্ব হয়েছে, কয়েকদিনের ভিতরই তারা বেতন ভাতা পাবে। ফেনারবাকের সচিব অজিত কুমার রায় জানান, গ্রাম পুলিশদের বেতন না পাওয়ার বিষয়টি সমন্ধে আমি অবগত নয়,তাছাড়া কোন গ্রাম পুলিশই আমাকে জানায়নী তারা দীর্ঘদিন ধরে বেতন ভাতা পাচ্ছেননা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সার্টিফিকেট সহকারী সির্দাথ রায় চৌধুরী জানান,ইউনিয়ন অফিসের সচিবরা বিল দিতে বিলম্ব করেছে,আমরা বার বার তাগিদ দিয়েছি বিল তৈরী করে দেওয়ার জন্য। ভীমখালীর চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান তালুকদার জানান,গ্রাম পুলিশদের বেতন বিল সচিবরা ঢিল করেন,তারা ভালো বলতে পারবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা জানান,গ্রাম পুলিশদের বেতনের টাকা বরাদ্ধ হয়েছে দেরীতে,বরাদ্ধ পেয়েছি,আশা করি কয়েকদিনের ভিতরই বেতন পাবেন গ্রাম পুলিশরা।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.