Sylhet Today 24 PRINT

‘তাঁরা প্রধান বিচারপতিকে হেয় করার চিন্তা করেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৩ মার্চ, ২০১৬

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা বলেছেন, আমাদের বিচার বিভাগকে আধুনিকায়ন করা হোক। যাতে বিচারকরা দ্রুত রায় লিখতে পারেন। রায় প্রদানের এক মাস, দু'মাস, একটা সহনীয় সময়ের মধ্যে যাতে তাঁরা রায় লিখতে পারেন। আজকে অনেক বিচারপতির কাছে ৬/৭ বছর আগের রায় পড়ে আছে। তাঁরা অবসরে চলে গেছেন।

আমি যখন এই কথাগুলো বলি, আমাদের সমাজের যারা বড় বড় মানুষ, যাঁরা ভালো ভালো কথা বলেন, তাদের এগুলো্ পছন্দ হয় না। তাঁরা উল্টো প্রধান বিচারপতিকে কিভাবে হেয় করা যায় সেই চিন্তা করেন।'

বুধবার (২ মার্চ) সিলেট আদালত প্রাঙ্গণে ‘ডিজিটালাইজড উইটনেস ডিপোজিশন সিস্টেম’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

এসময় প্রধান বিচারপতি টেলিভিশনের টকশোতে বিচারবিভাগ নিয়ে মন্তব্যেও ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আমাদের সংবাদ মাধ্যম অত্যন্ত স্বাধীন। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার টকশো ও প্রিন্ট মিডিয়ায় বিচার বিভাগ নিয়েও আলোচনা হয়। তবে বিচার বিভাগ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে সমালোচনায় এই স্বাধীনতার সীমালঙ্ঘন করা ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, সংবিধান আমাদের কাউকেই আনলিমিটেড লিবার্টি দেয়নি। লিবার্টি ও আইনের একটা সংযোগ রয়েছে। এমন স্বাধীনতা প্রয়োগ করা যাবে না, যা অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে।

উল্লেখ্য, বিচারকদের অবসরের পর রায় লেখা নিয়ে প্রধান বিচারপতির সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। অনেক রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবীরাও এই বিতর্কে জড়ান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসকে সিনহা ১৮৯২, ১৮৩৬ সালসহ পুরনো বিভিন্ন আইন বাদ দেওয়া ও যুগোপযোগী আইন সংযোজনের জন্য উপস্থিত আইনমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্কুল কলেজের এমপিওভুক্তি ও বাতিল, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফিশারিজ, বালু ও জল মহাল ইজারাসহ বেশ কিছু বিষয়ে কোন আইন নেই। কেবল সার্কুলারের মাধ্যমে এগুলো হয়ে থাকে। যে কারণে লিটিগেশনের কারণে আপীল বিভাগে প্রায় ৬০ ভাগ মামলা হয়ে থাকে।

তাই এখন সময় এসেছে এ বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। নতুন যুগোপযোগি আইন করতে হবে। এতে বিচার বিবাগের উপর চাপ অনেকাংশে হ্রাস পাবে। বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের ন্যায় বিচার নিশ্চিত হবে।

দেশের এখনও ৩০ লাখ মামলাজট রয়েছে জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমাদের মামলাজট কবে শেষ হবে তা নিশ্চিত করা বলা যাচ্ছে না। তবে, যেভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারপ্রক্রিয়া আধুনিকায়ন হচ্ছে, এতে আস্তে আস্তে এর সংখ্যা কমে আসবে। আইনজীবী, সুশীল সমাজ ও রাজনীতিবিদদের সহযোগিতা ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে না।

আমেরিকার গণতন্ত্রের উদাহরণ দিয়ে এসকে সিনহা আরও বলেন, যার কাছে ডলার আছে, তার কাছে গণতন্ত্র। আমাদের দেশেও গণতন্ত্র  কিছু সুবিধাভোগী মহলের কাছে সীমাবদ্ধ রয়েছে। বিচারপ্রার্থী মানুষের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবী মহলকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবার আগে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এ অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.