সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি | ০৯ মার্চ, ২০১৬
জামালগঞ্জের বেহেলী ইউনিয়নের রাজাপুর ব্রীজের এপ্রোচ ও অধিকাংশ সড়ক ভাঙ্গা থাকার কারনে জামালগঞ্জ,বিশম্ভরপুর,তাহিরপুরের মানুষের যাতায়তে ভোগান্তি হচ্ছে। এই উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের মানুষের জামালগঞ্জ সদর ও সাচনা বাজারের যোগাযোগেরও একমাত্র সড়ক সাচনা বেহেলী সড়ক।
সড়কটি ভাঙ্গা আর রাজাপুর ব্রীজে এপ্রোচ না থাকায় প্রতিদিন যাত্রীরা নানা র্দুঘঠনা আর দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। প্রতিদিনই ব্রীজে উঠতে নামতে অটোরিক্রা, টমটম,মটর সাইকেল দুর্ঘঠনার শিকার হচ্ছে,ব্রীজের উত্তর দিকের সড়কের একপাশে ভাঙ্গা থাকায় যানবাহন গুলো উঠা নামা করতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
গত সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ব্রীজের মাঝ খান সহ পুরো ব্রীজেই ঢালাই উঠে গেছে।র্ রীজের দু পাশের মাঠি নেই,রাস্তা দেবে গেছে,ভেঙ্গে গেছে কয়েকটি অংশ। জামালগঞ্জের সাথে তাহিরপুর,বিশম্ভরপুর উপজেলার একমাত্র সড়কের রাজাপুর ব্রীজটি হুমকির সম্মুখিন হয়ে পড়েছে।
এলজিইডির সূত্রে জানাযায়, ২০০৯ ইংরেজী অর্থ বছরের ১ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা ব্যায়ে র্নিমিত কাজ হলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ২০১০ সালের কাজটি হস্তান্তর করেন। কাজ শেষ হওয়ার ১ বছর পরও সেতুটি ব্যবহারের অনুপোযোগী ছিল এপ্রোচ সড়ক না থাকার কারনে। কয়েক বছর পর নামে মাত্র এপ্রোচ দেওয়া হলেও এক বছরের মধ্যে সেটিও ভেঙ্গে যায়। এভাবেই চলে কয়েক বছর। এলাকাবাসী স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের কাছে গেলেও কোন ফল পায়নি।
অবশেষে রাস্তার এই দুর্দশার কারনে চালকরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়ে কোন ফল না পেয়ে হাওর পাড়ের খেটে খাওয়া অটোবাইক ও অটোরিক্সা চালকরা তাদের নিজস্ব তহবিলের ৪০ হাজার টাকা খরচ করে তারা নিজেরা নিজেদের মত করে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের রাস্তা সংস্কার করেছিলেন। সেটিও কিছুদিন ব্যবহারের পর নাজুক হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর এই ব্রীজের দরপত্র আহবান করে বর্তমানে কাজ চলমান আছে। রাজাপুর ব্রীজের এপ্রোচের কাজ পেয়েছেন জামালগঞ্জের মের্সাস কাজী আশরাফ টের্ডাস,যার বরাদ্ধ প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা। অবশ্য ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের দাবী কাজ প্রায় শেষের দিকে।
এলাকাবাসীর দাবী ব্রীজের এপ্রোচের পাশাপাশি যদি সড়কটি সংসকার করা হতো তাহলে এলাকাবাসী উপকৃত হতে। সাচনা অটোবাইক সমিতির সেক্রেটারী জাহাঙ্গীর আলম জানান,রাস্তা ও রাজাপুর ব্রীজের অবস্থা খুবই খারাপ,এর আগে আমরা সমিতির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে অর্থ ব্যয় করে ব্রীজের আশে পাশের রাস্তাটি মেরামত করেছি।
বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন জানান,বেহেলী সহ আশ পাশের দু উপজেলার মানুষের চলাচলের সড়ক এটি। ব্রীজের দুপাশের ব্লক ও সাইড ওয়ালের কাজ চলছে। কাজটি শেষ হলে আমাদের র্দুভোগ কমবে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্টান মের্সাস আশরাফ টের্ডাসের সত্বাধীকারী কাজী আশরাফুজ্জামান জানিয়েছেন,আমার প্রতিষ্টান শুধু ব্রীজের এপ্রোচের কাজ পেয়েছি,কাজ প্রায় আশি ভাগ শেষ,কয়েকদিনের ভিতর বাকী কাজ শেষ হয়ে যাবে। রাজাপুর ব্রীজের কাজের দায়িত্ব রত উপসহকারী প্রকৌশলী আবু মো: হাসান জানান,শুধু মাত্র রাজাপুর ব্রীজের এপ্রোচের কাজ চলছে,কাজের গুনগত মান খুবই ভালো হচ্ছে,অর্ধেকের মত কাজ হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তারের সাথে একাধিক বার মোবাইলে ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নী।