এস আলম সুমন, কুলাউড়া | ২৪ মার্চ, ২০১৬
আগামী ২৩ এপ্রিল ৩য় দফায় অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে কুলাউড়া উপজেলার সাত ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২৩ মার্চ বুধবার রাতে এ প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। এদিকে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত অনেক প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সূত্রে জানা যায়, ২৩ এপ্রিলের ইউপি নির্বাচনে উপজেলার ৭ ইউনিয়নে বিএনপির ধানের শীষের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হলেন ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন আহমদ, কাদিপুর ইউনিয়নে সাবেক উপজেলা ছাত্রদল নেতা কানাডা প্রবাসী হাবিবুর রহমান ছালাম, ভুকশিমইল ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির নেতা মোঃ. আজিজুর রহমান মনির, রাউৎগাঁও ইউনিয়নে কুলাউড়া ডিগ্রী কলেজের সাবেক ভিপি ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল মহিত সোহেল, কুলাউড়া সদর ইউনিয়নে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সুফিয়ান আহমদ, বরমচাল ইউনিয়নে ইউপি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোক্তাদির মুক্তার, জয়চন্ডি ইউনিয়নে সাবেক ছাত্রনেতা হাজী রুমেল খাঁন।
দলের একাধিক নেতাকর্মী সূত্রে জানা যায়, জয়চন্ডি ইউনিয়নে ২ বারের নির্বাচিত ও বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কমর উদ্দিন আহমদ কমরু বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিলেন না। তার পরিবর্তে সাবেক ছাত্রনেতা হাজী রুমেল খাঁনকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়। এ ব্যাপারে কমর উদ্দিন আহমদ কমরু সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি দুই গ্রুপের নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করেছি এবং দলীয় ফরম পূরণ করে কুলাউড়া বিএনপির দুই গ্রুপের কাছে জমা দিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দরা মোটা অংকের টাকা খেয়ে রুমেল খানকে কেন্দ্র থেকে দলীয় মনোনয়ন এনে দিয়েছেন। যাকে বিএনপির মনোনয়ন দেয়া হয়েছে সে বিএনপি কি জানেনা। আমি ছাত্রদলের রাজনীতি করে আজ বিএনপির রাজনীতি করছি। নির্বাচনের মাধ্যমে এর জবাব আমার এলাকার জনগণ দিবে।”
মনোনয়ন বঞ্চিত বরমচাল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ইছহাক চৌধুরী ইমরান বলেন, “আমার দৃষ্টিতে সঠিক প্রার্থী বাছাই করা হয়নি। যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে নির্বাচনে সে প্রতিদ্ধন্ধিতা তো দূরের কথা প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাজেয়াপ্ত হবে। আমি নির্বাচন করব কিনা পরে সিদ্ধান্ত নেব।” এদিকে বরমচাল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ইছহাক চৌধুরী ইমরান বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় ইউনিয়নে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
রাউৎগাও ইউনিয়নের মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল জামাল বলেন, আমি ছাত্রদল ও যুবদল করেছি এখন বিএনপি’র রাজনীতি করছি। দল আমাকে মূল্যায়ন করেনি। আমার সাথে জনগনের সমর্থন আছে। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ এর জবাব দিবে। এদিকে আব্দুল জলিল জামাল বিএনপির দলীয় মনোয়ন না পাওয়ায় ইউনিয়নে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপজেলা বিএনপি একাংশের সভাপতি শওকতুল ইসলাম শকু কুলাউড়ার ৭ ইউনিয়নের বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী কেন্দ্র কর্তৃক চুড়ান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ ব্যাপারে বিএনপির অপরাংশের নেতা এড. আবেদ রাজা মোবাইলে কমর উদ্দিন আহমদ কমরু কর্তৃক আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোন অনৈতিক কাজের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নাই। পত্রিকায় দেখলাম কুলাউড়া বিএনপির অন্য গ্রুপ কমরু সাহেবের নাম কেন্দ্রে পাঠিয়ে ছিল। আমরা রুমেল খাঁনের নাম পাঠিয়েছি। তবে আমি শুনেছি এখানে রুমেল খান বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে ৭ ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়নের বিষয়টি আমি জানিনা। এ বিষয়ে কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করলে ভাল হয়।