Sylhet Today 24 PRINT

যান্ত্রিক সভ্যতার মাঝে হারিয়ে যাচেছ কামার শিল্প

কামারদেরও জীবন জীবিকা এখন বিপন্ন হতে চলছে

জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া,তাহিরপুর |  ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

সারা দেশেই ক্ষুদ্র লৌহজাত শিল্পের উপর নির্ভরশীল পেশাদার কামার সম্প্রদায়। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মত সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার কামারদেরও জীবন জীবিকা এখন বিপন্ন হতে চলছে। কাঁচা লোহা ও উৎপাদনের উপকরন সমূহের মূল্য বৃদ্বি,উৎপাদিত পন্যের মূল্য হ্রাস ইস্পাত নির্মিত মেশিনে তৈরি জিনিস পত্রের সঙ্গে অসম প্রতিযোগীতা এবং অর্থাভাব সহ নানা প্রতিকুল পরিস্থিতির কারনে কামারশালা গুলো বন্দ্ব হতে যাচেছ। ফলে পৈতিক পেশায় নিয়োজিত কামাররা চরম বিপাকে পড়েছে।

এতে বাধ্য হয়ে অনেকেই এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছে আবার যারা আকঁড়ে ধরে আছে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। জানা গেছে-নানা প্রতিকুল অবস্থার মধ্যেও কোনো রখমে টিকে আছে হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,ধর্মপাশা,মধ্যনগর,দিরাই,শাল্লা,ছাতক,দোয়ারা,বিশ্বাম্ভরপুর,দিরাই উপজেলার কামার পরিবার। এই প্রতিকুল অবস্থার মাঝেও তাদের পৈতিক পেশায় আকঁড়ে ধরে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে চলছে। তাহিরপুর উপজেলার এসব কামারশালায় ফসল কাটায় ব্যবহৃত কাচিঁ,পাট কাটার বেকি,পাসুন,লাঙ্গলের ফলা,হাতুর,কোদাল,দা,খন্তা,পান কাটার সর্ত্তা সহ গৃহস্থালি কাজের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে থাকেন তারা। এসব বিক্রি করেই তারা তাদের জীবন জীবিকা পরিচালনা করে থাকে। এ সকল দরিদ্র কামার পরিবার গুলোর আর্থিক সচ্ছলতা না থাকায় তারা লোহা কিনে বেশি মাত্রায় এ সকল জিনিস পত্র উৎপাদন করতে পারেন না। নিজের অর্থ অনুযায়ী অল্প পরিমানে উপকরন ক্রয় করে লৌহ জাত এসব জিনিস উৎপাদন করে পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে তারা খুর বেশি লাভবান হতে ও পারছেন না। এতে অর্থনৈতিক ভাবে তারা ক্ষতি গ্রস্থ হচেছন এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অর্থাভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন জাপন করতে হচেছ। তারা লোহাকে আগুনে পুড়ানোর জন্য কয়লা সংগ্রহ করেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে।

তাদের অনেকের নিজেস্ব কোন জমি নেই। সকাল থেকেই শুরু হয় জীবনের সাথে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার প্রতিযোগীতা। এই পেশার উপর নির্ভর করেই তাদের জীবন প্রবাহ চলে। তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর,তাহিরপুর,শ্রীপুর,চারাগাঁও,চানঁপুর,আনোয়ারপুর,বালিজুড়ি,নতুন বাজার,বাদাঘাট বাজার সহ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারের কামার শিল্পীদের সাথে কথা বললে তারা জানান- আমরা যারা পৈতিক পেশাকে আকঁড়ে ধরে আছি সবাই খুব কষ্টে আছি। বিভিন্ন স্থান থেকে কয়লা সংগ্রহ করে সকাল থেকেই শুরু হয় রাত অবধি পর্যন্ত শারীরিক ও কায়িক পরিশ্রম করে লোহার যে সমস্ত জিনিস তৈরি করি তা বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করে লাভ হয় খুব সামান্য। এতে পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁেচ থাকাই কষ্টকর। ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ও রাশিদ ভুঁইয়া জানান-সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার হাজার হাজার কামার শিল্পী তাদের নিখুত হাতের কারুকার্যের মাধ্যমে বর্তমান আধুনিক যান্ত্রিক ব্যবস্থার মাঝে টিকে রয়েছে অতি কষ্টে।

তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট বাজারের কামার সত্তরঞ্জন ও বিধান জানান-আমাদের কামার সম্প্রদায় কে প্রয়োজনীয় সহযোগীতা ও ক্ষুদ্র লোহজাত জিনিস পত্র তৈরি করতে ও এই আদি শিল্প কে টিকিয়ে রাখতে আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য সহজ শর্তে ঋন দিতে ও সরকারের সহযোগীতার দাবি জানান। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কারুজ্জামান কামরুল জানান-কামারগন তাদের শিল্পিক নিখুদ হাতে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র বংশ পরমপরায় তৈরি করে আসছে যা আমাদের বিভিন্ন কাজে প্রয়োজন পরে তাদের কে রক্ষা করা আমাদের প্রয়োজন।

 

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.