Sylhet Today 24 PRINT

বিএনপি নেতা ইমদাদ চৌধুরীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত মামলা

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০৪ এপ্রিল, ২০১৬

বিএনপি নেতা ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে দায়ের করা মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভূক্ত করেছে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ।

এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটি (মামলা নং-১/১৬) রবিবার নথিভূক্ত করা হয়েছে। থানার এসআই শেখ মো. ইয়াসিন মামলাটি তদন্ত করবেন বলেও জানান তিনি।

মামলার বাদী নগরীর আম্বরখানাস্থ গোল্ডেন টাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল ইসলাম খান জানান, আদালতে মামলা দায়েরের পর ইমদাদ চৌধুরী বিষয়টি নিয়ে ধু¤্রজাল সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন- এ মামলায় আপোস করা হয়েছে, যা সত্য নয়।

গত ২৮ মার্চ সিলেটের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইমদাদ চৌধুরীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন গোল্ডেন টাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল ইসলাম খান। মামলায় নগরীর চৌকিদেখি ১৮৭/৬ এর বাসিন্দা মৃত তজম্মুল আলীর ছেলে, গোল্ডেন টাওয়ারের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিএনপি নেতা ইমদাদ হোসেন চৌধুরী ছাড়াও গোল্ডেন টাওয়ারের ব্যবস্থাপক (হিসাব) তারেক আহমদ চৌধুরী, পরিচালক মোজাম্মিল আলী ও পরিচালক এইচএম আজমল আলীকে আসামী করা হয়েছে। সিলেটের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সরাব তহুরা অভিযোগ আমলে নিয়ে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেন।

অভিযোগে জানা যায়, আসামী তারেক আহমদ চৌধুরী ম্যানেজার (হিসাব) পদে গোল্ডেন টাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডে কর্মরত থাকাকালে আসামী ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, মো. মোজাম্মিল আলী ও এইচএম আজমল আলীসহ আরো কয়েক জন পরিচালকের যোগসাজসে কোম্পানীর টাকা ও অন্যান্য সম্পদ আত্মসাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। ইমদাদ হোসেন চৌধুরী ২০১২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ সেপ্টেম্বও ২০১৪ ইং তারিখ পর্যন্ত কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঐ সময়ে আসামী ইমদাদ হোসেন চৌধুরী অন্যান্য আসামীদের সহযোগিতায় বিক্রিকৃত কয়েকটি ফ্লাটের টাকা কোম্পানীর একাউন্টে জমা না দিয়ে প্রতারণামূলক ও বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন। কোম্পানীর লেজার ভাউচার বা হিসাব বইতে তা এন্ট্রি করেননি। পরবর্তীতে সকল পরিচালকগণের সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক অভিযুক্ত এমদাদ হোসেন চৌধুরীকে গোল্ডেন টাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় এবং গৌছুল হোসেনকে চেয়ারম্যান ও নুরুল ইসলাম খানকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে মনোনীত করা হয়। নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব পাওয়ার পর অব্যাহতি প্রাপ্ত ম্যানেজার হিসাব তারেক আহমদ চৌধুরী ও অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীকে হিসাবাদি উপস্থাপনের জন্য অনুরোধ জানালে তারা নানা অজুহাতে কালক্ষেপন করেন।

পরবর্তীতে ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ গোল্ডেন টাওয়ারের পরিচালনা পর্ষদ তদন্ত করে বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী ও অন্যান্য আসামীদের বিপুল অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পায়। তারা তদন্ত করে দেখতে পান আসামীরা আম্বরখানায় নির্মিত গোল্ডেন টাওয়ার একটি ফ্লাট জনৈক মাহতাব উদ্দিনের কাছে বিক্রি কথা বলে তার কাছ থেকে ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হস্তগত করেন, জনৈকা ইয়াসমিন বেগমের কাছে অনুরূপ আরেকটি ফ্লাট বিক্রির কথা বলে ২৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা হস্তগত করেন, জনৈক আতাউর রহমানের কাছে অনুরূপ ফ্লাট বিক্রির কথা বলে ৪০ লাখ টাকা আত্মসাত করেন। ফ্লাট গ্রহীতাদের কাছ থেকে ঐ টাকা আত্মসাত করলেও তারা তা কোম্পানীর তহবিলে জমা দেননি। এছাড়া, গোল্ডেন টাওয়ার ভাড়াটিয়াগণ নিয়মিতভাবে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করলেও সেই টাকা থেকে অব্যাহিতপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী তা আত্মসাৎ করেন, ফলে গোল্ডেন টাওয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে বিদ্যুৎ বিল বাবত সরকারের প্রায় ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, এসব টাকা ফেরত চাওয়ায় অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অপরাপর আসামীরা বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অন্যান্য পরিচালককে হত্যাসহ বিভিন্ন হুমকী প্রদান করছেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.