Sylhet Today 24 PRINT

কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বিপর্যস্ত বড়লেখা

তপন কুমার দাস, বড়লেখা |  ০৯ এপ্রিল, ২০১৬

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরে চাল ও বেড়া উড়ে এবং শিলাবৃষ্টিতে টিন ছিদ্র হয়ে প্রায় তিন হাজার ঘরের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে বোরো ফসল ও সবজির। গত শুক্রবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই ঝড় ও শিলাবৃষ্টি আঘাত হানে। আকস্মিক কয়েকদফার এ কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে জনজীবন।  



স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড় ও শিলাবৃষ্টি কমবেশি সারা উপজেলাতেই আঘাত করেছে। ঘরবাড়ি ও ফসলের খেত তছনছ এবং গাছপালা উপড়ে ফেলেছে। ঝড়ে উড়ে গেছে বিভিন্ন ঘরের চাল ও বেড়া। শিলাবৃষ্টি পুরনো টিনের চালে তৈরি করেছে অসংখ্য ছিদ্র। তাতে টিনের চালা সম্পূর্ণ ঝাঁজরা হয়ে গেছে।

শনিবার সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। তবে বেশি ক্ষতি হয়েছে উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর, দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ও দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নে। উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের বড়আইল, কুমারসাইল, করমপুর, ইসলামপুর, আতুয়া, আলিমপুর, সায়পুর, ভূগা, চানপুর গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে সীমান্তবর্তী বড়আইল, আতুয়া ও কুমারসাইলে প্রায় পাঁচ শতাধিক বরবটি ও ঝিঙ্গা খেত শিলাবৃষ্টিতে তছনছ হয়ে গেছে।   

উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের কুমারসাইল চা-বাগানের বড় টিলাবাবু (টিলা বাবু চা-বাগানের পদবি) সাধন দেব জানিয়েছেন, তাদের বাগানের শ্রমিকদের ৪২টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। চা-সেকশনের ক্ষতি হয়েছে। এতে বাগানের প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।

বড়আইল গ্রামের সবজি চাষী ছমির উদ্দিন (৫৫) জানান, তাঁর রামাই (বরবটি) খেতে ৩০/৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। প্রতিবারের মতো আশা করেছিলেন দুই-আড়াই লাখ টাকার রামাই বিক্রি করতে পারবেন। শিলাবৃষ্টিতে সব তছনছ হয়ে গেছে। এখন চোখে পথের দিশা দেখছেন না।



একই গ্রামের সবজি চাষি রমজান আলী (৫৫) ও আব্দুল ওহাব বাবু (৫৮) বলেন, কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না।

উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের বিদায়ী চেয়ারম্যান মোঃ. আকবর আলী জানিয়েছেন, ৩৫-৪০ বছরেও এরকম শিলাবৃষ্টি হয়নি। ক্ষয়ক্ষতির খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। আমার ইউনিয়নে অন্তত দুই হাজার ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অপরদিকে দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের গজভাগ, দোহালিয়া, পূর্ব দক্ষিণভাগ, জ্যোতিরবন্দ, পাথারিয়া, মোকাম ও সমনবাগ চা-বাগান এবং দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের চুকারপুঞ্জি, কেরামতনগর চা-বাগানসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বড়লেখা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর (৯ এপ্রিল) শনিবার বিকেলে বলেন, ‘শিলাবৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির খবর শুনে সরেজমিনে এলাকা ঘুরে তালিকা তৈরি করেছি। এ পর্যন্ত প্রায় দুই থেকে তিন হাজারের মতো ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া বোরো ফসল ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.