নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৭ এপ্রিল, ২০১৬
আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ইলিয়াস আলী ও আনসার আলী আবারও ফিরে আসবেন, বললেন আনসার আলীর স্ত্রী মুক্তা বেগম। এই স্ত্রীর এখনো দৃঢ় বিশ্বাস তাঁর স্বামী ফিরে আসবেন। যদিও চার বছর পেরিয়ে গেছে আনসার নিখোঁজের। এখনো তাঁর কোনো খোঁজ নেই।
আনসার আলী ছিলেন নিঁখোজ বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর গাড়ির চালক। মাত্র ৭ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন তিনি। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী থেকে এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হন। ইলিয়াস আলীর গাড়ির চালক ছিলেন আনসার আলী।
গাড়িটি বনানী থেকে উদ্ধার হলেও ঘটনার পর থেকে ইলিয়াস আলীর সঙ্গে আনসার আলীও নিখোঁজ রয়েছেন।
আনসার আলী সিলেটের বিশ্বনাথের খাজাঞ্চি ইউনিয়নের গমরাগুল গ্রামের মৃত ইছব আলীর পুত্র। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে আনসার ছিলেন দ্বিতীয়। নিখোঁজের চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো তাদের কোন সন্ধান মেলেনি। তবে ইলিয়াস আলীর গাড়ি চালক আনসার আলী নিখোঁজ হলেও বেতন পান তার পরিবার। ইলিয়াস আলীর পরিবার প্রতি মাসে আনসার আলীর মা ও স্ত্রীর কাছে তার বেতনের টাকা প্রেরণ করে আসছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, আনসার আলীর পরিবারের খোঁজ খবর সব সময় নেয়া হচ্ছে।
জানা যায়, ২০ বছর ধরে ঢাকায় ইলিয়াস আলীর বাসাতেই আনসার আলী বসবাস করে আসছিলেন। সুযোগ পেলে ছুটে আসতেন গ্রামের বাড়িতে। আনসার আলী বাড়িতে আসলে ছোট মেয়ে চাঁদনিকে নিয়ে সময় কাটাতেন। ইলিয়াস আলীর সঙ্গে আনসার আলীর পরিবারের আত্মীয়তার সর্ম্পক ছিল। তিনি ছিলেন ইলিয়াসের খুব বিশ্বস্ত।
আনসারের উপার্জিত অর্থ দিয়েই চলত তাদের সংসার। আনসার আলী যে রাতে নিখোঁজ হয়েছেন ওই রাত ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনসার আলীর সর্বশেষ কথা হয়। রাতেই তার পরিবার জানতে পেরেছেন ইলিয়াস আলীর সঙ্গে আনসার আলীও নিখোঁজ হয়েছেন। এরপর থেকে আনসারের পরিবারে ভর করে অন্ধকার।
আনসারের স্ত্রী মুক্তা বেগম বলেন, আগের মতো বিএনপি নেতারা আমাদের তেমন কোন খোঁজ খবর নিচ্ছেন না। তবে মাঝে মাঝে দুই-একজন ফোন করেন। তবে ইলিয়াস আলীর পরিবারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। স্বামী নিখোঁজের পর থেকে ইলিয়াস আলীর পরিবার প্রতি মাসে আমাদের খরচ করার জন্য টাকা দেন। কিন্তু এই টাকা দিয়ে কোনো মতে সংসার চলছে। বাধ্য হয়ে একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা চাকরি নিয়েছি।
তিনি বলেন, ছোট মেয়ে চাঁদনি (৬) প্রতিদিন তার পিতাকে এনে দেওয়ার কথা বলে। শিশু কন্যা চাঁদনীকে কিছুতেই সান্তনা দিতে পারছেন না।