সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৩ এপ্রিল, ২০১৬
সিলেট অঞ্চলের উজান এলাকা হচ্ছে ভারতের উত্তরপূর্ব এলাকা। সেখানে পরিবেশ বিধ্বংসী কোনো কার্যক্রম চললে ভাটি তথা সিলেট অঞ্চলে ক্ষতিকর প্রভাব সবার আগে পড়বে। তাই প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের স্বার্থে ভারতের উত্তরপূর্ব এলাকা হতে হবে পরিবেশ সুরক্ষিত। কিন্তু সেখানেই যত্রতত্র বৃক্ষ নিধন, খনিজ আহরণে অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকির সৃষ্টি করছে। উত্তরপূর্ব ভারতে পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে শুধু পরিবেশবাদীদের নয়, রাজনৈতিক দলগুলোকেও প্রতিবাদী ও সোচ্চার হওয়া উচিত। তাই অনতিবিলম্বে সুরমা অববাহিকা রক্ষায় সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেতে হবে।
শনিবার সিলেটে বিশ্ব ধরিত্রী দিবস উদযাপনের অংশ হিসাবে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ও সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার-এর যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে নাগরিক সংলাপে একথা নাগরিকরা একথা বলেন ।
"উত্তরপূর্ব ভারতে অবাধ বৃক্ষ নিধন ও অপরিকল্পিত খনিজ আহরনে সুরমা অববাহিকায় ক্ষতিকর প্রভাব"-শীর্ষক নাগরিক সংলাপ সুরমা নদীতে ভাসমান একটি রেস্তোরায় বিকাল ৪ ঘটিকায় শুরু হয় । বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-সিলেট শাখার সহ-সভাপতি ই ইউ শহিদুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার আব্দুল করিম কিম উত্তরপূর্ব ভারতে অবাধ বৃক্ষ নিধন ও অপরিকল্পিত খনিজ আহরনে সেখানকার গণমাধ্যম ও সরকারি-বেসরকারী গবেষণায় প্রকাশিত পরিবেশ-প্রতিবেশ বিধ্বংসী বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন । যা সুরমা অববাহিকার নদ-নদী ও হাওর অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের । ইতিমধ্যে শুকনা মৌসুমে সিলেট বিভাগের অধিকাংশ নদীতে পানি প্রবাহ কমছে ।
অপরিকল্পিত খনিজ আহরনে মেঘালয় অঞ্চলের একাধিক নদীতে বিষাক্ত বর্জ্য নিষ্কাসন হচ্ছে, যা্র প্রমান সারী ও যাদুকাটা নদীতে পাওহা গেছে। একই সাথে সুরমা নদীর উৎসমুখ ভরাট হয়ে যাওয়ায় মাতৃনদী বরাক থেকে শুকনা মৌসুমে সুরমার বিচ্ছিন্ন হয়ে পরার বিষয়টি তুলে ধরা হয় ।
আলোচ্য বিষয়ে নাগরিক অভিমত প্রকাশ করতে গিয়ে ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশ-এর সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, উত্তরপূর্ব ভারতে অবাধ বৃক্ষ নিধন ও অপরিকল্পিত খনিজ আহরনের প্রভাব সিলেট তথা বাংলাদেশের মানুষের জন্য দুঃসময় তরান্বিত করছে । সুরমা অববাহিকার নদ-নদী রক্ষায় "টিপাইমুখ বাঁধ আন্দোলন"-এর চেয়ে আরও জোরদার নাগরিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে । যা সিলেট থেকেই শুরু করতে হবে । বিষয়টির ভয়াবহতা উপস্থাপন করা হয়েছে । এখন প্রয়োজন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা । যাতে নাগরিক শক্তির সমন্বিত প্রচেস্টায় উত্তরপূর্ব ভারতের বৃক্ষ নিধন ও অপরিকল্পিত-অনিয়ন্ত্রিত প্রাকৃতিক সম্পদ আহরন ও বানিজ্যিক কর্মকাণ্ড সহ সুরমা অববাহিকার নদ-নদী সমুয়ের জন্য নেতিবাচক এবং অভ্যন্তরিন ও আন্তঃদেশীয় নদী বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড বন্ধ্যে সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখতে বাধ্য হয় ।
সিলেট চেম্বার অব কমার্স অব ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সালাহ উদ্দিন আলী আহমদ বলেন, আমরা বাংলাদেশ সরকার শুধু নয়, উত্তরপূর্ব ভারতের রাজ্য সরকার ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে পরবর্তী যে কোন সাক্ষাৎ-এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উত্থাপন করবো ।
সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির ইকুবলেন, ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাবনাবোধ করছি । তাই এ লড়াই শুধু সিলেট নয় সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে সংবাদকর্মীরা কাজ করবে ।
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতি'র সাধারন সম্পাদক শাহ আশরাফুল ইসলাম বলেন, সিলেটের প্রতিনিধিত্বশীল সকল সংগঠনকে বিষয়টির ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত করতে হবে ।
প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী এই নাগরিক সংলাপে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, রাজনীতিবিদ আরশ আলী, ক্রীড়া সংগঠক সুপ্রিয় চক্রবর্তী, বিভাগীয় সরকার বাস্তবায়ন পরিষদের আহবাহক মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান চৌধুরী, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্টার জামিল আহমদ চৌধুরী ও সহযোগী অধ্যাপক মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, তথ্যচিত্র নির্মাতা নিরঞ্জন দে যাদু, সংস্কৃতিকর্মী মিশফাক আহমদ মিশু, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অব ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক এনামুল কুদ্দুস চৌধুরী, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ শাহেদা আখতার, আকবেট-এর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান ছায়েম, খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার ও বাপা হবিগঞ্জ শাখার সাধারন সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল, ক্রীড়া সংগঠক জয়দ্বীপ দাস সুজক, টিআইবি-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার সুদর্শন পাল, সিলেট সমিতি ঢাকা-এর মহাসচিব বাহার আহমদ চৌধুরী, সমাজকর্মী আমিন তাহমীদ ও কয়েস আহমদ সাগর প্রমুখ ।