জগন্নাথপুর প্রতিনিধি | ২৭ এপ্রিল, ২০১৬
আজ ২৭ এপ্রিল (বুধবার) জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের ভূরাখালি গ্রামের বাসিন্দা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত জাতীয় নেতা আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদের ১১ তম মৃত্যু বার্ষিকী।
এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রয়াত জাতীয় নেতার মৃত্যু বার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষে জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনাসভা, মিলাদ মাহফিল ও সামাদ আজাদের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পনের আয়োজন করা হয়েছে বলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু জানিয়েছেন।
এছাড়া আব্দুস সামাদ আজাদ স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে প্রয়াত জাতীয় নেতার রূহের মাগফেরাত কামনা করে পৌর শহরের বিভিন্ন মসজিদে দোয়া ও বিভিন্ন মন্দিরে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে বলে আওয়ামীলীগ নেতা জয়দ্বীপ সূত্রধর বীরেন্দ্র নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে-সামাদ আজাদের গ্রামের বাড়ি ভূরাখালিতে পৃথকভাবে আলোচনাসভা, মিলাদ মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে বলে স্থানীয় ভূরাখালি গ্রামের বাসিন্দা হাওর উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান জানান।
আব্দুস সামাদ আজাদের কর্মময় জীবন : বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, প্রয়াত ২৭ এপ্রিল বুধবার ২০১৬। তৎকালীন সিলেট জেলার জগন্নাথপুর থানার ভূরাখালি গ্রামে তিনি ১৯২২ সালে জন্মগ্রহন করেন। পিতা শরিয়ত উল্লাহ,মাতা সুরজান বেগম। মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ ১৯৪০ সালে সুনামগঞ্জ জেলা মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনএর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৪৬সালে একই সংগঠনের অবিভক্ত আসামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে তাঁর সিদ্বান্ত ক্রমেও নেতৃত্তে প্রথম ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা হয় । ১৯৫৪ সালের সাধারন নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট থেকে এম,এল,এ নির্বাচিত হন এবং আওয়ামীলীগে শ্রম সম্পাদক হিসাবে যোগদান করেন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং সর্বদলীয় রাজনৈতিক জোট এন,ডি,এফ এর দপ্তর সাম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ এর নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগ থেকে এম,এন,এ নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্বের প্রধান সংগঠকের একজন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্র মন্ত্রী ছিলেন তিনি।
৭৫ পরবর্তী আওয়ামীলীগের পুনর্গঠনে বিশেষ ভুমিকা পালন করেন এবং জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত আওয়ামীলীগের অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। ১৯৯০ এর গণঅভূ্থানের এবং ১৯৯৬ এর জনতার মঞ্চের অন্যতম রূপকার ছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালে বিরোধী দলীয় উপনেতার দায়ীত্ব পালন করেন। সুনামগঞ্জ জেলার প্রায় প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা থেকে বিভিন্ন সময়ে সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ মন্ত্রিসভায় সফল পররাষ্ট মন্ত্রি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
বৃটিশ, পাকিস্তান, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বৈরাচারের কোপানলে পড়ে জীবনের বহু বছর তিনি কারাবন্দী ছিলেন।