বড়লেখা প্রতিনিধি | ০৬ মার্চ, ২০১৫
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মানসিক প্রতিবন্দ্বী যুবতীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে শিশু সন্তান জন্মের পর বিয়ের ভয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় জালাল উদ্দিন (৩৫) নামের ওই অভিযুক্ত গা ঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত জালাল উদ্দিন উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের রফিনগর গ্রামের মৃত আজির উদ্দিনের ছেলে। এ ব্যাপারে নির্যাতিতার বোন সুফিয়া বেগম ঘটনাকারী জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা করেছেন। (মামলা নম্বর-০৮, তারিখ: ১৫.০১.২০১৫)।
মামলা সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার রফিনগর গ্রামের মৃত সমছ উদ্দিনের স্ত্রী আমিরুন নেছা ও মেয়ে রেহানা বেগম (২০) নিজ বাড়ীতে একত্রে বসবাস করেন। পাশে বাড়ী থাকার সুবাধে প্রতিবেশী মৃত আজির উদ্দিনের ছেলে জালাল উদ্দিন (৩৫) প্রায় সময়ে রেহানা বেগমের বাড়ীতে যাতায়াত করত। শারীরিক সম্পর্কের সূত্র ধরে এক পর্যায়ে সে গর্ভবতী হয়ে উঠলে নির্যাতিতার চাপে ঘটনাকারী জালাল ও তার পরিবার রেহানাকে বিয়ে করতে সম্মত হয়। সন্তান প্রসবের পর জালাল উদ্দিন বিয়েতে অসম্মতি জানালে রেহানা, তার মা আমিরুন নেছা ও বড়বোন সুফিয়া বেগম গ্রামের মুরব্বিদের শরনাপন্ন হন। এ বিষয়ে চারবার অনুষ্ঠিত সালিশ বৈঠকের একটি ব্যতিত তিন বৈঠকে জালাল উপস্থিত হয়নি। শেষ বৈঠকের পর থেকে সে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে।
বৈঠকের প্রধান সালিশ ইউপি মেম্বার আজিজুর রহমান জানান, চারটি বৈঠকেই ঘটনাকারী জালাল উদ্দিন বলে নিশ্চিত হয়ে আপোস মীমাংসা স্বরূপ রেহানাকে বিয়ের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত না মেনে সে এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।
মামলার বাদী সুফিয়া বেগম অভিযোগ করেন প্রথমে বিয়েতে রাজী হলেও পরে রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় জালাল আমার বোনকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে এবং এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন তারা গরীব হওয়ায় প্রথমে পুলিশ মামলা রেকর্ড করেনি। প্রায় এক মাস পর জনৈক মানবাধিকার কর্মীর হস্তক্ষেপে পুলিশ মামলা রেকর্ড করে (মামলা নম্বর-০৮, তারিখ: ১৫.০১.২০১৫)। প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের কারনে ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে আশংকা প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মেহেদী হাসান জানান, মামলার আসামী জালাল উদ্দিনকে গ্রেফতারের চেষ্ঠা চলছে। তাকে গ্রেফতারের পর ডিএনএ টেষ্টের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হবে।